সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও মুসলিম বিশ্ব গাজার জন্য কিছুই করছে না: আফগান প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৯:৫২:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫ ১০১ বার পড়া হয়েছে

ইমারতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ হাফিযাহুল্লাহ মুসলিম বিশ্বের প্রতি তীব্র হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, জায়নবাদী শক্তির নির্লজ্জ বর্বরতা চললেও ইসলামি দেশগুলো নীরব দর্শকের ভূমিকায় অবিচল। গাজাবাসীদের পাশে দাঁড়াতে তাদের রয়েছে যথেষ্ট সামর্থ্য ও সম্পদ, অথচ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। বিষয়টিকে তিনি ‘বেদনাদায়ক, দুঃখজনক ও লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেন।
রবিবার (২১ জুলাই) কাবুলের গুলখানা প্রাসাদে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (OIC)-এর মহাসচিব শেখ ড. মোহাম্মদ বিন আবদুল করিম আল ঈসার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।
আফগান প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ফিলিস্তিনে নিরীহ মুসলমানদের ওপর যেভাবে অব্যাহতভাবে দমন-পীড়ন ও হত্যাযজ্ঞ চলছে, তা মানবতা ও উম্মাহর হৃদয়কে রক্তাক্ত করছে। অথচ ইসলামি রাষ্ট্রগুলো কার্যকর প্রতিবাদ তো দূরে থাক, কোনো সুস্পষ্ট অবস্থানও নিচ্ছে না। আল্লাহ যেন মুসলিমদের হৃদয়ে গাজাবাসীদের প্রতি সহানুভূতি ও বাস্তব সহযোগিতার তীব্র আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি করেন।”
বৈঠকে ওআইসি মহাসচিব আফগানিস্তানে আসতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আফগানিস্তান ইসলামি বিশ্বের হৃদয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। আমরা এ দেশে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা এবং একটি টেকসই ইসলামি রাষ্ট্র কাঠামো দেখতে চাই।”
বিশ্বব্যাপী চরমপন্থী কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “বর্তমানে কিছু খারেজি মানসিকতার গোষ্ঠী ইসলামি বিশ্বকে বিভ্রান্ত করছে এবং মুসলমানদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। এদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ওআইসি আফগানিস্তানের পাশে থাকবে।”
আলোচনার একপর্যায়ে ইসলামি উম্মাহর সংকট নিরসনে আলেমসমাজের ভূমিকাও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন আফগান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সমাধানের মূল দায়িত্ব আলেমদের। সাধারণ জনগণ বা রাজনৈতিক নেতৃত্ব নয়, বরং নবীদের উত্তরসূরি হিসেবে আলেমদের ধর্মীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে শাসকদের সঠিক পথে পরিচালনা করা উচিত।”
বিশ্লেষকদের মতে, আফগান প্রধানমন্ত্রী ও ওআইসি মহাসচিবের এই বৈঠক শুধু দুই পক্ষের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন নয়— বরং মুসলিম বিশ্বের সামনে একটি আত্মসমালোচনার আয়নাও তুলে ধরেছে।















