সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

চট্টগ্রাম থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন মেজর জিয়া: এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:২১:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫ ৮৪ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “চট্টগ্রাম বিদ্রোহের নগরী, এখান থেকেই ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন মেজর জিয়া।” তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে। সূর্যসেন, প্রীতিলতা থেকে শুরু করে হাবিলদার রজব আলী পর্যন্ত সবাই এই মাটির সাহসিকতার প্রতীক।”

রোববার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন বিপ্লব উদ্যানে এক জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে শুরু হওয়া পদযাত্রা বহদ্দারহাট, মুরাদপুর হয়ে বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিপ্লব উদ্যানের জনসভায় গিয়ে শেষ হয়।

নাহিদ বলেন, “গুটিকয়েক মাফিয়ার কাছে চট্টগ্রামকে আর ছেড়ে দেবো না। চট্টগ্রাম বহু ভাষা, বহু ধর্ম ও বহু সংস্কৃতির নগরী হিসেবে গড়ে উঠবে। এ অঞ্চল জাতীয় নিরাপত্তার অংশ এবং সার্বভৌমত্বের ভিত্তি। কেউ চট্টগ্রামের দিকে চোখ তুলে তাকালে, বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।”

তিনি অভিযোগ করেন, “চট্টগ্রামে রয়েছে অপরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা, পানি সমস্যাসহ নানা দুরবস্থা। লুটপাট ও মাফিয়াচক্রের কবলে পড়ে শহর এখন বেহাল। অথচ চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন। তাই এনসিপি এই শহরকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে কাজ করবে।”

জনসভায় এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, “নতুন বাংলাদেশে লুটপাটের রাজনীতি চলবে না। ব্রিজ, কালভার্ট আর বিল্ডিং দেখিয়ে টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এখন জনগণের কাছে প্রতিটি পয়সার হিসাব দিতে হবে। চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির অবসান ঘটাতে হবে।”

দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “চট্টগ্রামের তরুণরা হাসিনাকে পালাতে বাধ্য করেছে। আমরা একটি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র চাই। বিভাজনের চেষ্টা চলছে, কিন্তু ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করতে হবে। বাংলাদেশ কারো বাপের না, এই দেশ জনতার। ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানেও তরুণ প্রজন্ম প্রমাণ করেছে যে, ইতিহাস গড়ে তারা।”

পদযাত্রা ও জনসভায় চট্টগ্রাম মহানগর ছাড়াও উত্তর ও দক্ষিণ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে বিপ্লব উদ্যানে সমবেত হন। বিকেল থেকেই সেখানে জমায়েত শুরু হয়।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলাম, যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

এসময় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন, যেমন—‘কথায় কথায় বাংলা ছাড়, বাংলা কি তোর বাপ-দাদার’, ‘মুজিববাদ মুর্দাবাদ, ইনকিলাব জিন্দাবাদ’, ‘ক্ষমতা না জনতা—জনতা, জনতা’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না’।

 

এস/

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

চট্টগ্রাম থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন মেজর জিয়া: এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ

আপডেট সময় : ১১:২১:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫

 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “চট্টগ্রাম বিদ্রোহের নগরী, এখান থেকেই ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন মেজর জিয়া।” তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে। সূর্যসেন, প্রীতিলতা থেকে শুরু করে হাবিলদার রজব আলী পর্যন্ত সবাই এই মাটির সাহসিকতার প্রতীক।”

রোববার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন বিপ্লব উদ্যানে এক জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে শুরু হওয়া পদযাত্রা বহদ্দারহাট, মুরাদপুর হয়ে বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিপ্লব উদ্যানের জনসভায় গিয়ে শেষ হয়।

নাহিদ বলেন, “গুটিকয়েক মাফিয়ার কাছে চট্টগ্রামকে আর ছেড়ে দেবো না। চট্টগ্রাম বহু ভাষা, বহু ধর্ম ও বহু সংস্কৃতির নগরী হিসেবে গড়ে উঠবে। এ অঞ্চল জাতীয় নিরাপত্তার অংশ এবং সার্বভৌমত্বের ভিত্তি। কেউ চট্টগ্রামের দিকে চোখ তুলে তাকালে, বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।”

তিনি অভিযোগ করেন, “চট্টগ্রামে রয়েছে অপরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা, পানি সমস্যাসহ নানা দুরবস্থা। লুটপাট ও মাফিয়াচক্রের কবলে পড়ে শহর এখন বেহাল। অথচ চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন। তাই এনসিপি এই শহরকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে কাজ করবে।”

জনসভায় এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, “নতুন বাংলাদেশে লুটপাটের রাজনীতি চলবে না। ব্রিজ, কালভার্ট আর বিল্ডিং দেখিয়ে টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এখন জনগণের কাছে প্রতিটি পয়সার হিসাব দিতে হবে। চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির অবসান ঘটাতে হবে।”

দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “চট্টগ্রামের তরুণরা হাসিনাকে পালাতে বাধ্য করেছে। আমরা একটি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র চাই। বিভাজনের চেষ্টা চলছে, কিন্তু ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করতে হবে। বাংলাদেশ কারো বাপের না, এই দেশ জনতার। ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানেও তরুণ প্রজন্ম প্রমাণ করেছে যে, ইতিহাস গড়ে তারা।”

পদযাত্রা ও জনসভায় চট্টগ্রাম মহানগর ছাড়াও উত্তর ও দক্ষিণ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে বিপ্লব উদ্যানে সমবেত হন। বিকেল থেকেই সেখানে জমায়েত শুরু হয়।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলাম, যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

এসময় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন, যেমন—‘কথায় কথায় বাংলা ছাড়, বাংলা কি তোর বাপ-দাদার’, ‘মুজিববাদ মুর্দাবাদ, ইনকিলাব জিন্দাবাদ’, ‘ক্ষমতা না জনতা—জনতা, জনতা’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না’।

 

এস/