সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

একই নারীকে বিয়ে করলেন দুই ভাই, বললেন— ‘আমরা গর্বিত’

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:১৩:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫ ১০৭ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

ভারতের হিমাচল প্রদেশের সিরমৌর জেলায় শত শত মানুষের উপস্থিতিতে একই নারীকে বিয়ে করলেন দুই ভাই। ঐতিহ্যবাহী হট্টি সম্প্রদায়ের বহু পুরোনো বহুগামিতা প্রথা মেনে এই ব্যতিক্রমী বিয়ের ঘটনা ঘটে জেলার শিল্লাই এলাকায়। বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করে উভয় ভাই জানান— ‘আমরা গর্বিত’।

ভারতীয় বার্তাসংস্থা পিটিআইকে উদ্ধৃত করে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের পাত্রের নাম প্রদীপ ও কপিল নেগি। কনের নাম সুনীতা চৌহান, যিনি কুনহাট গ্রামের বাসিন্দা। গত ১২ জুলাই থেকে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় স্থানীয় প্রথা অনুযায়ী।

কনে সুনীতা চৌহান বলেন, “আমি এই প্রথা সম্পর্কে জানতাম এবং নিজের ইচ্ছাতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটি আমাদের সম্পর্কের প্রতি আমার সম্মান।”

প্রদীপ বর্তমানে সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত। ছোট ভাই কপিল থাকেন বিদেশে। বিয়েতে দুই ভাই একসাথে অংশ নেন এবং কনে হিসেবে সুনীতাকে গ্রহণ করেন। কপিল বলেন, “আমি বিদেশে থাকলেও আমাদের স্ত্রীকে ভালোবাসা, স্থিতি ও সহযোগিতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। আমরা সব সময় স্বচ্ছতার পক্ষে।”

হিমাচলের রাজস্ব আইন অনুযায়ী, হট্টি সম্প্রদায়ের বহুগামিতা প্রথা ‘জোড়িদারা’ নামে স্বীকৃত এবং এটি এখনো আইনগতভাবে বৈধ। ২০২২ সালে হট্টি সম্প্রদায়কে তফসিলি উপজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

সিরমৌরের বাদনা গ্রামে গত ছয় বছরেই এমন পাঁচটি বিয়ের নজির রয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাহাড়ি অঞ্চলে কৃষিজমির টুকরো টুকরো বিভাজন ঠেকাতেই এই প্রথার সূচনা হয়েছিল। হট্টি সম্প্রদায়ের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কুন্দন সিং শাস্ত্রী জানান, “হাজার বছরের পুরোনো এই প্রথার মূল উদ্দেশ্য ছিল— জমি যেন ভাগাভাগি হয়ে ক্ষুদ্র না হয়, এবং ভাইয়েরা যেন ঐক্যবদ্ধ থাকেন।”

তিনি আরও বলেন, “এই প্রথায় একই পাত্রীর সঙ্গে দুই বা ততোধিক ভাই এমনকি ভিন্ন মাতার ভাইদেরও বিবাহ স্বাভাবিক ঘটনা। এটি শুধু ঐতিহ্য নয়, বরং পাহাড়ি জীবনের প্রয়োজনীয়তা থেকেও উৎসারিত।”

তবে সাম্প্রতিক সময়ে নারীদের শিক্ষার প্রসার, আর্থিক উন্নয়ন এবং শহরমুখী প্রবণতার কারণে এমন বিয়ে তুলনামূলকভাবে বিরল হয়ে উঠছে। তবুও হট্টি সমাজে এটি এখনো সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

 

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি, পিটিআই।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

একই নারীকে বিয়ে করলেন দুই ভাই, বললেন— ‘আমরা গর্বিত’

আপডেট সময় : ০৫:১৩:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫

 

ভারতের হিমাচল প্রদেশের সিরমৌর জেলায় শত শত মানুষের উপস্থিতিতে একই নারীকে বিয়ে করলেন দুই ভাই। ঐতিহ্যবাহী হট্টি সম্প্রদায়ের বহু পুরোনো বহুগামিতা প্রথা মেনে এই ব্যতিক্রমী বিয়ের ঘটনা ঘটে জেলার শিল্লাই এলাকায়। বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করে উভয় ভাই জানান— ‘আমরা গর্বিত’।

ভারতীয় বার্তাসংস্থা পিটিআইকে উদ্ধৃত করে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের পাত্রের নাম প্রদীপ ও কপিল নেগি। কনের নাম সুনীতা চৌহান, যিনি কুনহাট গ্রামের বাসিন্দা। গত ১২ জুলাই থেকে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় স্থানীয় প্রথা অনুযায়ী।

কনে সুনীতা চৌহান বলেন, “আমি এই প্রথা সম্পর্কে জানতাম এবং নিজের ইচ্ছাতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটি আমাদের সম্পর্কের প্রতি আমার সম্মান।”

প্রদীপ বর্তমানে সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত। ছোট ভাই কপিল থাকেন বিদেশে। বিয়েতে দুই ভাই একসাথে অংশ নেন এবং কনে হিসেবে সুনীতাকে গ্রহণ করেন। কপিল বলেন, “আমি বিদেশে থাকলেও আমাদের স্ত্রীকে ভালোবাসা, স্থিতি ও সহযোগিতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। আমরা সব সময় স্বচ্ছতার পক্ষে।”

হিমাচলের রাজস্ব আইন অনুযায়ী, হট্টি সম্প্রদায়ের বহুগামিতা প্রথা ‘জোড়িদারা’ নামে স্বীকৃত এবং এটি এখনো আইনগতভাবে বৈধ। ২০২২ সালে হট্টি সম্প্রদায়কে তফসিলি উপজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

সিরমৌরের বাদনা গ্রামে গত ছয় বছরেই এমন পাঁচটি বিয়ের নজির রয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাহাড়ি অঞ্চলে কৃষিজমির টুকরো টুকরো বিভাজন ঠেকাতেই এই প্রথার সূচনা হয়েছিল। হট্টি সম্প্রদায়ের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কুন্দন সিং শাস্ত্রী জানান, “হাজার বছরের পুরোনো এই প্রথার মূল উদ্দেশ্য ছিল— জমি যেন ভাগাভাগি হয়ে ক্ষুদ্র না হয়, এবং ভাইয়েরা যেন ঐক্যবদ্ধ থাকেন।”

তিনি আরও বলেন, “এই প্রথায় একই পাত্রীর সঙ্গে দুই বা ততোধিক ভাই এমনকি ভিন্ন মাতার ভাইদেরও বিবাহ স্বাভাবিক ঘটনা। এটি শুধু ঐতিহ্য নয়, বরং পাহাড়ি জীবনের প্রয়োজনীয়তা থেকেও উৎসারিত।”

তবে সাম্প্রতিক সময়ে নারীদের শিক্ষার প্রসার, আর্থিক উন্নয়ন এবং শহরমুখী প্রবণতার কারণে এমন বিয়ে তুলনামূলকভাবে বিরল হয়ে উঠছে। তবুও হট্টি সমাজে এটি এখনো সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

 

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি, পিটিআই।