গোপালগঞ্জের ঘরে ঘরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পতাকা উড়বে: নাহিদ ইসলাম
- আপডেট সময় : ০১:৪১:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫ ৮২ বার পড়া হয়েছে

গোপালগঞ্জে এনসিপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “গোপালগঞ্জের প্রতিটা ঘরে ঘরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পতাকা উড়বে।”
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, “গোপালগঞ্জ নিয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। বাংলাদেশের প্রতিটি জেলার মতো গোপালগঞ্জের প্রতিও আমাদের রাজনৈতিক কমিটমেন্ট রয়েছে। আমরা এই জেলার অধিবাসীদের ওপর আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘদিনের বৈষম্যের বিরোধিতা করি।”
পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, “গোপালগঞ্জসহ সারাদেশে আওয়ামী লীগ মুজিববাদী ফ্যাসিবাদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছে। তারা মুক্তিযুদ্ধকে কলুষিত করেছে এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে বেইনসাফি করেছে। আমরা এই পরিস্থিতি বদলে দিতে বদ্ধপরিকর।”
নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, “আমরা কোনো ধরনের সংঘাতের উদ্দেশ্যে গোপালগঞ্জ যাইনি। আমাদের কর্মসূচি ছিল পূর্বঘোষিত ও শান্তিপূর্ণ। কিন্তু আওয়ামী লীগপন্থী সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালায়, যেভাবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানেও নিরস্ত্র জনতার ওপর আক্রমণ চালানো হয়েছিল।”
আওয়ামী লীগকে ‘সন্ত্রাসবাদী সংগঠন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, “গণ–অভ্যুত্থানে হাজারো প্রাণহানির পরেও অনেকে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ আনার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে—এই সংগঠন এখন আর কোনো রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি খুনিচক্রে পরিণত হয়েছে।”
নাহিদ অভিযোগ করেন, “ছাত্রলীগ নামক নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গোপালগঞ্জে একত্রিত হয়েছিল। প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর একাংশ তাদের পক্ষ নিয়ে কাজ করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “সকালের কিছু উত্তেজনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স’ পাওয়ার পর আমরা গোপালগঞ্জে প্রবেশ করি। আমরা পদযাত্রা করিনি, কেবল পথসভা করেছি। এরপর ফেরার পথে আমাদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়।”
সরকার ও প্রশাসনকে দায় নিতে হবে দাবি করে তিনি বলেন, “এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত সন্ত্রাসী আক্রমণ। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের গ্রেপ্তার দাবি করছি। শুধু গোপালগঞ্জ নয়, সারাদেশে এদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার অভিযান চালাতে হবে।”
নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা গোপালগঞ্জে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, আমরা তা রেখেছি। শহীদের রক্তের শপথ নিয়ে আমরা ঘোষণা করছি—মুজিববাদকে গোপালগঞ্জ বা বাংলাদেশের কোনো মাটিতে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না। শহীদ বাবু মোল্লা ও শহীদ রথীন বিশ্বাসের গোপালগঞ্জ পুনরুদ্ধার করা হবে ইনশা আল্লাহ।”













