সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

চট্টগ্রাম জেলা কারাগার পরিদর্শন

কারাগার কেবল শাস্তির স্থান নয়, বরং এটি সংশোধনাগারও: ধর্ম উপদেষ্টা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:২২:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫ ৯৫ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

চট্টগ্রাম জেলা কারাগার পরিদর্শন শেষে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, কারাগার কেবল শাস্তির স্থান নয়, বরং এটি সংশোধনাগারও। কারাবন্দিদের মানবাধিকার রক্ষায় সরকার সচেষ্ট রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) কারাগার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। পরে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও এসব তথ্য জানানো হয়।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, “কেউ গ্রেফতার হলেই তিনি অপরাধী নাও হতে পারেন। অনেক সময় সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণে মিথ্যা মামলায়ও মানুষ গ্রেপ্তার হয়। যতক্ষণ আদালতের রায়ে কেউ দোষী সাব্যস্ত না হন, ততক্ষণ তাকে অপরাধী বলা যাবে না।”

তিনি জানান, ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই কারাগারে বন্দির সংখ্যা ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি। তিনি কারা কর্তৃপক্ষকে আরেকটি ইউনিট চালু করে স্থান সংকুলানের পরামর্শ দেন।

ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের জন্য উপযুক্ত স্থান না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে উপদেষ্টা বলেন, “কারাগারে কোনো উপাসনালয় নেই— না মুসলমানদের জন্য, না হিন্দুদের জন্য। কমপক্ষে একটি করে কক্ষ বরাদ্দ দিয়ে বন্দিদের উপাসনার ব্যবস্থা করা জরুরি।” তিনি এ বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা আশ্বস্ত করেন।

ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কারাগারে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ করে বন্দিদের মধ্যে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ জাগ্রত করা সম্ভব। এতে অপরাধপ্রবণতা হ্রাস পাবে।”

কারাগার আধুনিকীকরণ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, “আদালতে আসামিদের ডিজিটাল হাজিরা, দর্শনার্থীদের অনলাইনে সময়সূচি প্রদর্শন ও অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

পরিদর্শনে ডিআইজি প্রিজন টিপু সুলতান, সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক সরকার সরোয়ার আলম ও বেসরকারি কারা পরিদর্শকরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে আন্তঃমন্ত্রণালয় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য হিসেবে ধর্ম উপদেষ্টা চট্টগ্রামের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

চট্টগ্রাম জেলা কারাগার পরিদর্শন

কারাগার কেবল শাস্তির স্থান নয়, বরং এটি সংশোধনাগারও: ধর্ম উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ০৩:২২:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫

 

চট্টগ্রাম জেলা কারাগার পরিদর্শন শেষে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, কারাগার কেবল শাস্তির স্থান নয়, বরং এটি সংশোধনাগারও। কারাবন্দিদের মানবাধিকার রক্ষায় সরকার সচেষ্ট রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) কারাগার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। পরে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও এসব তথ্য জানানো হয়।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, “কেউ গ্রেফতার হলেই তিনি অপরাধী নাও হতে পারেন। অনেক সময় সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণে মিথ্যা মামলায়ও মানুষ গ্রেপ্তার হয়। যতক্ষণ আদালতের রায়ে কেউ দোষী সাব্যস্ত না হন, ততক্ষণ তাকে অপরাধী বলা যাবে না।”

তিনি জানান, ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই কারাগারে বন্দির সংখ্যা ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি। তিনি কারা কর্তৃপক্ষকে আরেকটি ইউনিট চালু করে স্থান সংকুলানের পরামর্শ দেন।

ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের জন্য উপযুক্ত স্থান না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে উপদেষ্টা বলেন, “কারাগারে কোনো উপাসনালয় নেই— না মুসলমানদের জন্য, না হিন্দুদের জন্য। কমপক্ষে একটি করে কক্ষ বরাদ্দ দিয়ে বন্দিদের উপাসনার ব্যবস্থা করা জরুরি।” তিনি এ বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা আশ্বস্ত করেন।

ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কারাগারে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ করে বন্দিদের মধ্যে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ জাগ্রত করা সম্ভব। এতে অপরাধপ্রবণতা হ্রাস পাবে।”

কারাগার আধুনিকীকরণ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, “আদালতে আসামিদের ডিজিটাল হাজিরা, দর্শনার্থীদের অনলাইনে সময়সূচি প্রদর্শন ও অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

পরিদর্শনে ডিআইজি প্রিজন টিপু সুলতান, সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক সরকার সরোয়ার আলম ও বেসরকারি কারা পরিদর্শকরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে আন্তঃমন্ত্রণালয় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য হিসেবে ধর্ম উপদেষ্টা চট্টগ্রামের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন।