ওয়াকআউটের পর ফের আলোচনায় বিএনপি
স্বৈরাচার রুখতেই সংলাপে অংশ নিচ্ছি, নির্বাহী বিভাগের কর্তৃত্ব খর্ব করা চলবে না: সালাহউদ্দিন আহমেদ
- আপডেট সময় : ০২:৪৩:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫ ১২০ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপ থেকে কিছু সময়ের জন্য ওয়াকআউট করার পর ফের আলোচনায় ফিরে এসেছে বিএনপি। সংলাপে অংশ নিয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দেশে যেন আর কখনও স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদ জন্ম নিতে না পারে, সে লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগে বিএনপি সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে। তবে, নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা খর্ব করা হলে রাষ্ট্র পরিচালনায় ভারসাম্য নষ্ট হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
সোমবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে কমিশনের দ্বিতীয় পর্যায়ের ২০তম দিনের বৈঠকে এসব কথা বলেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকেই প্রস্তাব ছিল, কেউ যেন ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে না পারেন—সেটি গৃহীত হয়েছে। আবার, নির্বাচন কমিশন গঠনে একটি স্বাধীন সার্চ কমিটি গঠনের প্রস্তাবও আমরা দিয়েছিলাম, যেখানে সরকারি দল, বিরোধী দল ও বিচার বিভাগের প্রতিনিধি থাকবে। সেটিও ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে।”
তিনি জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়ে বিএনপির প্রস্তাব অনুযায়ী ভবিষ্যতের কোনো সংসদ যদি তা সংশোধন করে, তবে সেই সংশোধনী রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আগে গণভোটে যেতে হবে—এই শর্তটিও গৃহীত হয়েছে।
তবে, এসব অগ্রগতির মধ্যেও নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহিতা যেমন সংসদের কাছে, তেমনি জনগণের কাছেও। কিন্তু যদি তাদের যথাযথ কর্তৃত্ব না থাকে, তাহলে কেবল দায়িত্ব আর জবাবদিহিতা দিয়ে রাষ্ট্র চলবে না। এটি কার্যকর রাষ্ট্রপরিচালনার পরিপন্থী।”
তিনি বলেন, “সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহের নিয়োগে নির্বাহী বিভাগের হাত-পা বেঁধে দেওয়া হলে তা ভবিষ্যতে প্রশাসনিক স্থবিরতা সৃষ্টি করতে পারে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নির্বাহী বিভাগকে শক্তিশালী হতে হবে, দুর্বল নয়।”
বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা সংলাপে অংশ নিচ্ছে একটি গঠনমূলক মানসিকতা নিয়ে। তবে মৌলিক দ্বিমত থাকা সত্ত্বেও আলোচনা থেকে বিরত থাকা বা মতপার্থক্য প্রকাশ করাও গণতন্ত্রের ভাষা বলেই মত দেন সালাহউদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, “সব বিষয়ে ঐকমত্য হবে—এমন দাবি আমরা করি না। বরং মতপার্থক্যের মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র এগিয়ে যায়। আমরা মনে করি না যে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে কাউকে ঐকমত্যে বাধ্য করা উচিত। বিএনপি ছাড়া জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা অসম্ভব—এ কথাও ভাবতে হবে।”
বক্তব্য শেষে সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, সংলাপের পরবর্তী ধাপেও বিএনপি অংশ নেবে এবং ইতিবাচক আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকবে।













