সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

শেষ নিঃশ্বাসেও শিক্ষার্থীর মঙ্গল চেয়েছেন মাহরীন চৌধুরী

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:০৯:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫ ৯২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত হয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক সমন্বয়ক মাহরীন চৌধুরী (৪২)। দগ্ধ অবস্থায় মৃত্যুর আগে স্বামীকে বলেছিলেন, ‘আমার বাচ্চারা সব পুড়ে মারা যাচ্ছে, আমি কীভাবে সহ্য করি?’

গতকাল সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে দুর্ঘটনার সময় মাহরীন স্কুলে উপস্থিত ছিলেন। বিকট বিস্ফোরণের পরপরই আতঙ্কে যখন চারপাশে ছুটোছুটি শুরু হয়, তখন জীবন বাঁচাতে বের না হয়ে শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে এগিয়ে যান তিনি। শিক্ষার্থীদের বের করে আনার চেষ্টা করতে গিয়ে নিজেই আগুনে পুড়ে যান এই সাহসী শিক্ষক।

১০০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে নেওয়া হলে রাত ৯টার পর লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর আগে স্বামী মনছুর হেলালের হাতে শক্ত করে ধরেছিলেন নিজের পুড়ে যাওয়া হাত। তখন বলেছিলেন, ‘তোমার সাথে আর দেখা হবে না… আমার বাচ্চাদের দেখো।’

স্বামী মনছুর হেলাল সাংবাদিকদের বলেন, “দুর্ঘটনার সময় মাহরীন সামান্য আঘাত পেয়েও শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। মোবাইলে আমাকে জানায়, ‘ভেতরে বাচ্চারা আটকা পড়েছে, আমি ওদের বের করে আনব।’ এরপর বিস্ফোরণ। পা থেকে মাথা পর্যন্ত সব পুড়ে যায় তার। মৃত্যুর আগে বলে, ‘আমার খুব খিদা লাগছে।’ ভাই, আমি শুধু তিন ফোঁটা পানি দিতে পেরেছি।”

মাহরীনের মরদেহ আজ মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকালে তাঁর গ্রামের বাড়ি নীলফামারীর জলঢাকা পৌরসভার বগুলাগাড়ীতে পৌঁছায়। বেলা ১১টায় জানাজা শেষে বাবার কবরের পাশে দাফন করা হয়। স্থানীয়রা জানান, দুই ঈদে গ্রামে এসে গরিবদের সহায়তা করতেন মাহরীন। শিক্ষানুরাগী হিসেবে তিনি ছিলেন বগুলাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি।

মাহরীন চৌধুরীর ছোট ভাই মুনাফ মজিব চৌধুরী সামাজিকমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় লেখেন, “তিনি আমাদের ছেড়ে গেছেন। মাইলস্টোনে আগুন লাগার সময় নিজে না বের হয়ে ছাত্রছাত্রীদের বাঁচাতে গিয়ে নিজেই পুড়ে যান। তাঁর জন্য দোয়া করবেন।”

মাহরীন রেখে গেছেন দুই ছেলে ও অসংখ্য ছাত্রছাত্রী, যাদের জীবন বাঁচাতে গিয়ে তিনি নিজে জীবন দিলেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

শেষ নিঃশ্বাসেও শিক্ষার্থীর মঙ্গল চেয়েছেন মাহরীন চৌধুরী

আপডেট সময় : ০৬:০৯:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫

 

ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত হয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক সমন্বয়ক মাহরীন চৌধুরী (৪২)। দগ্ধ অবস্থায় মৃত্যুর আগে স্বামীকে বলেছিলেন, ‘আমার বাচ্চারা সব পুড়ে মারা যাচ্ছে, আমি কীভাবে সহ্য করি?’

গতকাল সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে দুর্ঘটনার সময় মাহরীন স্কুলে উপস্থিত ছিলেন। বিকট বিস্ফোরণের পরপরই আতঙ্কে যখন চারপাশে ছুটোছুটি শুরু হয়, তখন জীবন বাঁচাতে বের না হয়ে শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে এগিয়ে যান তিনি। শিক্ষার্থীদের বের করে আনার চেষ্টা করতে গিয়ে নিজেই আগুনে পুড়ে যান এই সাহসী শিক্ষক।

১০০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে নেওয়া হলে রাত ৯টার পর লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর আগে স্বামী মনছুর হেলালের হাতে শক্ত করে ধরেছিলেন নিজের পুড়ে যাওয়া হাত। তখন বলেছিলেন, ‘তোমার সাথে আর দেখা হবে না… আমার বাচ্চাদের দেখো।’

স্বামী মনছুর হেলাল সাংবাদিকদের বলেন, “দুর্ঘটনার সময় মাহরীন সামান্য আঘাত পেয়েও শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। মোবাইলে আমাকে জানায়, ‘ভেতরে বাচ্চারা আটকা পড়েছে, আমি ওদের বের করে আনব।’ এরপর বিস্ফোরণ। পা থেকে মাথা পর্যন্ত সব পুড়ে যায় তার। মৃত্যুর আগে বলে, ‘আমার খুব খিদা লাগছে।’ ভাই, আমি শুধু তিন ফোঁটা পানি দিতে পেরেছি।”

মাহরীনের মরদেহ আজ মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকালে তাঁর গ্রামের বাড়ি নীলফামারীর জলঢাকা পৌরসভার বগুলাগাড়ীতে পৌঁছায়। বেলা ১১টায় জানাজা শেষে বাবার কবরের পাশে দাফন করা হয়। স্থানীয়রা জানান, দুই ঈদে গ্রামে এসে গরিবদের সহায়তা করতেন মাহরীন। শিক্ষানুরাগী হিসেবে তিনি ছিলেন বগুলাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি।

মাহরীন চৌধুরীর ছোট ভাই মুনাফ মজিব চৌধুরী সামাজিকমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় লেখেন, “তিনি আমাদের ছেড়ে গেছেন। মাইলস্টোনে আগুন লাগার সময় নিজে না বের হয়ে ছাত্রছাত্রীদের বাঁচাতে গিয়ে নিজেই পুড়ে যান। তাঁর জন্য দোয়া করবেন।”

মাহরীন রেখে গেছেন দুই ছেলে ও অসংখ্য ছাত্রছাত্রী, যাদের জীবন বাঁচাতে গিয়ে তিনি নিজে জীবন দিলেন।