পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২১, আহত ছাড়িয়েছে ৫৯০
- আপডেট সময় : ০৪:১৭:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫ ৮৬ বার পড়া হয়েছে

প্রবল বর্ষণ ও ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত পাকিস্তান। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (NDMA) জানিয়েছে, চলমান দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২১ জনে। এর মধ্যে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) পর্যন্ত নতুন করে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর এসেছে—তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দুইজন পুরুষ ও তিন শিশু।
গত ২৪ ঘণ্টায় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। NDMA জানিয়েছে, আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও বজ্রপাতের ঘটনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
চলতি বর্ষা মৌসুমে মোট আহতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৫৯২-তে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাঞ্জাব প্রদেশ, যেখানে প্রাণ গেছে ১৩৫ জনের, আহত হয়েছেন ৪৭০ জন। খাইবার পাখতুনখোয়ায় নিহত ৪০, আহত ৬৯ জন। সিন্ধুতে ২২ জন নিহত ও ৪০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া বেলুচিস্তানে ১৬ জন, গিলগিট-বালতিস্তানে ৩ জন, আজাদ কাশ্মীরে ১ জন ও ইসলামাবাদে ১ জন মারা গেছেন।
NDMA জানিয়েছে, অধিকাংশ মৃত্যুই ঘটেছে ঘরের ছাদ ও দেয়াল ধসে, পানিতে ডুবে যাওয়া, ভূমিধস, বজ্রপাত ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে।
গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ২৫টি বাড়ি ধসে পড়েছে। বর্ষা মৌসুম শুরুর পর থেকে ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৮০৪টি বাড়ি এবং মারা গেছে প্রায় ২০০টি গবাদিপশু।
সম্পত্তি ক্ষতির দিক থেকেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতি পাঞ্জাবে—১৬৮টি বাড়ি আংশিক এবং ৭৮টি সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়ায় ১৪২টি আংশিক ও ৭৮টি পুরোপুরি ধ্বংস। সিন্ধুতে ৫৪টি আংশিক এবং ৩৩টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধসে গেছে। বেলুচিস্তানে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ৫৬টি, সম্পূর্ণ ধ্বংস ৮টি বাড়ি।
গিলগিট-বালতিস্তানে ৭১টি বাড়ি আংশিকভাবে ও ৬৬টি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। আজাদ কাশ্মীরে আংশিকভাবে ৭৫টি এবং সম্পূর্ণরূপে ১৭টি বাড়ি ধসে পড়েছে। রাজধানী ইসলামাবাদেও ধসে পড়েছে ৩৫টি আংশিক ও ১টি সম্পূর্ণ ভবন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পাকিস্তানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা বেড়েছে।
















