সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

লাখো মানুষের ভালোবাসায় বিদায় নিলেন শাইখুল হাদীস আল্লামা হাফেজ আহমদুল্লাহ

ইনসাইড ডেস্ক ::
  • আপডেট সময় : ১০:৪২:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

প্রখ্যাত আলেমে দীন, হাদিস বিশারদ ও আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়ার শায়খুল হাদিস, প্রধান মুফতি ও সদরুল মুহতামিম মুফতি হাফেজ আহমদুল্লাহ লাখো মানুষের ভালোবাসায় বিদায় নিয়েছেন। 

রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টায় পটিয়া মাদরাসা প্রাঙ্গণে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে লক্ষাধিক মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে মাদরাসার মাকামে আজিজিয়া কবরস্থানে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

এর আগে রোববার সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বিশিষ্ট এই আলেমে দীন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

আল্লামা আহমদুল্লাহ আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশের সহ-সভাপতি, ইসলামিক ফিকহ বোর্ড বাংলাদেশের পৃষ্ঠপোষক এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সালসাবিলের প্রধান উপদেষ্টাসহ নানা পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

মুফতি হাফেজ আহমদুল্লাহ ১৯৪১ সালের ১২ মে পটিয়ার নাইখাইন গ্রামের মুন্সি বাড়িতে মাওলানা ঈসা সাহেব (রহ.)–এর ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ১০ বছর বয়সেই জামিয়া আরবিয়া জিরিতে হিফজ সম্পন্ন করে হয়ে ওঠেন ‘হাফেজ সাহেব’। প্রাথমিক শিক্ষার ধাপ অতিক্রম করে দাওরায়ে হাদিস শেষ করেন প্রথম স্থান নিয়ে। লাহোরের জামিয়া আশরাফিয়া, মুলতানের খায়রুল মাদারিস এবং করাচির দারুল উলুম; প্রতিটি বিদ্যাপীঠ তাঁর জ্ঞানের সমুদ্রপিপাসা মেটানোর ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। সেখানে তিনি একে একে ইলমের নানা শাখায় উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেন, প্রথম স্থান অর্জন করেন, এবং উস্তাদদের ভালোবাসা ও সম্মান লাভ করেন। দারুল উলুম করাচিতে মুফতি আজম আল্লামা শফি রহ. এর তত্ত্বাবধানে ইফতা সম্পন্নের মাধ্যমে শেষ হয় তাঁর ছাত্রজীবনের দীর্ঘ যাত্রা।

১৩৮৮ হিজরির শাওয়ালে মাতৃভূমিতে ফিরে তিনি আবারও আঁকড়ে ধরলেন শিক্ষার মশাল। জামিয়া আরবিয়া জিরিতে সুদীর্ঘ ২৩ বছর শিক্ষকতা করেন, শেষে হন শায়খুল হাদিস। এরপর ১৪১১ হিজরিতে আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ায় শায়খুল আরব ওয়াল আজম হজরত শাহ ইউনুস রহ.–এর আহ্বানে মুহাদ্দিস ও মুফতি হিসেবে যোগ দেন। তারপর থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত প্রায় চার দশক তিনি ছিলেন জামিয়া পটিয়ার প্রাণস্পন্দন সদরে মুহতামিম, শায়খুল হাদিস ও প্রধান মুফতি এবং আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশের সভাপতি।

তাঁর বইয়ের মধ্যে রয়েছে- সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যা ও হানাফি মাযহাবের যুক্তিসমৃদ্ধ জবাব, চট্টগ্রামের মাশায়েখগণ (বাংলা ও উর্দু সংস্করণ), তাজকেরাতুন নূর, তাসকীনুল খাওয়াতির ফী শরহিল আশবাহি ওয়ান্নাযায়ির, ইসলামের দৃষ্টিতে শেয়ার বাজার, আহমদী সুবাসিত খুতবা, এক এর ভিতর সাত, হায়াতে আহমদী (আত্মজীবনী) ইত্যাদি।

এসইউটি/

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

লাখো মানুষের ভালোবাসায় বিদায় নিলেন শাইখুল হাদীস আল্লামা হাফেজ আহমদুল্লাহ

আপডেট সময় : ১০:৪২:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

প্রখ্যাত আলেমে দীন, হাদিস বিশারদ ও আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়ার শায়খুল হাদিস, প্রধান মুফতি ও সদরুল মুহতামিম মুফতি হাফেজ আহমদুল্লাহ লাখো মানুষের ভালোবাসায় বিদায় নিয়েছেন। 

রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টায় পটিয়া মাদরাসা প্রাঙ্গণে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে লক্ষাধিক মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে মাদরাসার মাকামে আজিজিয়া কবরস্থানে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

এর আগে রোববার সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বিশিষ্ট এই আলেমে দীন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

আল্লামা আহমদুল্লাহ আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশের সহ-সভাপতি, ইসলামিক ফিকহ বোর্ড বাংলাদেশের পৃষ্ঠপোষক এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সালসাবিলের প্রধান উপদেষ্টাসহ নানা পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

মুফতি হাফেজ আহমদুল্লাহ ১৯৪১ সালের ১২ মে পটিয়ার নাইখাইন গ্রামের মুন্সি বাড়িতে মাওলানা ঈসা সাহেব (রহ.)–এর ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ১০ বছর বয়সেই জামিয়া আরবিয়া জিরিতে হিফজ সম্পন্ন করে হয়ে ওঠেন ‘হাফেজ সাহেব’। প্রাথমিক শিক্ষার ধাপ অতিক্রম করে দাওরায়ে হাদিস শেষ করেন প্রথম স্থান নিয়ে। লাহোরের জামিয়া আশরাফিয়া, মুলতানের খায়রুল মাদারিস এবং করাচির দারুল উলুম; প্রতিটি বিদ্যাপীঠ তাঁর জ্ঞানের সমুদ্রপিপাসা মেটানোর ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। সেখানে তিনি একে একে ইলমের নানা শাখায় উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেন, প্রথম স্থান অর্জন করেন, এবং উস্তাদদের ভালোবাসা ও সম্মান লাভ করেন। দারুল উলুম করাচিতে মুফতি আজম আল্লামা শফি রহ. এর তত্ত্বাবধানে ইফতা সম্পন্নের মাধ্যমে শেষ হয় তাঁর ছাত্রজীবনের দীর্ঘ যাত্রা।

১৩৮৮ হিজরির শাওয়ালে মাতৃভূমিতে ফিরে তিনি আবারও আঁকড়ে ধরলেন শিক্ষার মশাল। জামিয়া আরবিয়া জিরিতে সুদীর্ঘ ২৩ বছর শিক্ষকতা করেন, শেষে হন শায়খুল হাদিস। এরপর ১৪১১ হিজরিতে আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়ায় শায়খুল আরব ওয়াল আজম হজরত শাহ ইউনুস রহ.–এর আহ্বানে মুহাদ্দিস ও মুফতি হিসেবে যোগ দেন। তারপর থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত প্রায় চার দশক তিনি ছিলেন জামিয়া পটিয়ার প্রাণস্পন্দন সদরে মুহতামিম, শায়খুল হাদিস ও প্রধান মুফতি এবং আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশের সভাপতি।

তাঁর বইয়ের মধ্যে রয়েছে- সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যা ও হানাফি মাযহাবের যুক্তিসমৃদ্ধ জবাব, চট্টগ্রামের মাশায়েখগণ (বাংলা ও উর্দু সংস্করণ), তাজকেরাতুন নূর, তাসকীনুল খাওয়াতির ফী শরহিল আশবাহি ওয়ান্নাযায়ির, ইসলামের দৃষ্টিতে শেয়ার বাজার, আহমদী সুবাসিত খুতবা, এক এর ভিতর সাত, হায়াতে আহমদী (আত্মজীবনী) ইত্যাদি।

এসইউটি/