সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সাথে ধর্ম উপদেষ্টার সাক্ষাৎ

ইনসাইড ডেস্ক ::
  • আপডেট সময় : ০৪:৩২:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৯৭ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মিয়া শাহবাজ শরিফের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পিএম হাউজে সেদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন উপদেষ্টা।

পাক প্রধানমন্ত্রী ধর্ম উপদেষ্টা ও প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং সখ্যতার বন্ধনে আবদ্ধ। এ সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে আরো জোরদার হবে।

নিউইয়র্ক ও কায়রোতে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকের কথা উল্লেখ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং দারিদ্র্য দূরীকরণে তাঁর অবদানের প্রশংসা করেন পাক প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া, তিনি পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে প্রধান উপদেষ্টার আকাঙ্ক্ষাকে সাধুবাদ জানান।

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের একটি পত্র পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হাতে তুলে দেন ধর্ম উপদেষ্টা।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে লেখা এ পত্রে প্রধান উপদেষ্টা পাকিস্তানে নজিরবিহীন বন্যায় সেদেশের সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সহমর্মিতা ও আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং এই ভয়াবহ দুর্যোগে নিহতদের পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

এ পত্রে ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের জনগণ পাকিস্তানের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের পাশে রয়েছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আপনার সুদক্ষ নেতৃত্বে পাকিস্তানের জনগণ তাদের অসাধারণ ধৈর্য ও সহনশীলতার মাধ্যমে এ চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করবে। প্রয়োজনে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে বাংলাদেশ সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিদ্যমান অগ্রযাত্রা নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় অব্যাহত রাখবে বলে পাক প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে তাঁর সুবিধামতো সময়ে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান। প্রধান উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

এ সাক্ষাতকালে ঢাকা ও করাচীর মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল দ্রুত পুনঃস্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া, কৃষি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ধর্মতত্ত্ব ও চিকিৎসা বিষয়ে উভয়দেশের শিক্ষার্থী বিনিময়ে স্কলারশিপ প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় । উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে পাকিস্তানের ফেডারেল সরকার অনার্স থেকে পিএইচডি কোর্সে অধ্যয়নের জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদেরকে ৫০০ টি বৃত্তি মঞ্জুর করেছেন।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ, ধর্ম বিষয়ক ও আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি মন্ত্রী সরদার ইউসুফ খান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আতা তারার, ইসলামাবাদে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান, উপদেষ্টার একান্ত সচিব ছাদেক আহমদ ও শরীফ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের প্রভাষক মুফতি জাহিদ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এসইউটি/

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সাথে ধর্ম উপদেষ্টার সাক্ষাৎ

আপডেট সময় : ০৪:৩২:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মিয়া শাহবাজ শরিফের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পিএম হাউজে সেদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন উপদেষ্টা।

পাক প্রধানমন্ত্রী ধর্ম উপদেষ্টা ও প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং সখ্যতার বন্ধনে আবদ্ধ। এ সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে আরো জোরদার হবে।

নিউইয়র্ক ও কায়রোতে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকের কথা উল্লেখ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং দারিদ্র্য দূরীকরণে তাঁর অবদানের প্রশংসা করেন পাক প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া, তিনি পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে প্রধান উপদেষ্টার আকাঙ্ক্ষাকে সাধুবাদ জানান।

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের একটি পত্র পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হাতে তুলে দেন ধর্ম উপদেষ্টা।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে লেখা এ পত্রে প্রধান উপদেষ্টা পাকিস্তানে নজিরবিহীন বন্যায় সেদেশের সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সহমর্মিতা ও আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং এই ভয়াবহ দুর্যোগে নিহতদের পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

এ পত্রে ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের জনগণ পাকিস্তানের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের পাশে রয়েছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আপনার সুদক্ষ নেতৃত্বে পাকিস্তানের জনগণ তাদের অসাধারণ ধৈর্য ও সহনশীলতার মাধ্যমে এ চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করবে। প্রয়োজনে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে বাংলাদেশ সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিদ্যমান অগ্রযাত্রা নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় অব্যাহত রাখবে বলে পাক প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে তাঁর সুবিধামতো সময়ে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান। প্রধান উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

এ সাক্ষাতকালে ঢাকা ও করাচীর মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল দ্রুত পুনঃস্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া, কৃষি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ধর্মতত্ত্ব ও চিকিৎসা বিষয়ে উভয়দেশের শিক্ষার্থী বিনিময়ে স্কলারশিপ প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় । উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে পাকিস্তানের ফেডারেল সরকার অনার্স থেকে পিএইচডি কোর্সে অধ্যয়নের জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদেরকে ৫০০ টি বৃত্তি মঞ্জুর করেছেন।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ, ধর্ম বিষয়ক ও আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি মন্ত্রী সরদার ইউসুফ খান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আতা তারার, ইসলামাবাদে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান, উপদেষ্টার একান্ত সচিব ছাদেক আহমদ ও শরীফ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের প্রভাষক মুফতি জাহিদ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এসইউটি/