‘পিআর পদ্ধতি খায়, না মাথায় দেয়; কেউ বোঝে না’: সালাহউদ্দিন
- আপডেট সময় : ০৭:২৫:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুলাই ২০২৫ ১৩৮ বার পড়া হয়েছে

প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, “পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চায় যারা, তাদের অসৎ উদ্দেশ্য আছে। পিআর পদ্ধতি খায়, না মাথায় দেয়— কেউ বোঝে না।”
শুক্রবার (১৮ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে মহানগর উত্তর বিএনপির মৌন মিছিল কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যকে ধরে রাখতে হবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে। কেউ কেউ এখন নতুন করে ক্ষমতার স্বপ্ন দেখছে, এটা খারাপ না। তবে নির্বাচনকে পিছিয়ে দিয়ে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে চাইলে, সেটা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারেরই প্রচেষ্টা।”
তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার রাজনৈতিক মৃত্যু হয়ে গেছে, দাফনও হয়ে গেছে দিল্লিতে। অথচ একটি মহল আবারও ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনার পাঁয়তারা করছে।”
এই জুলাইয়ের মধ্যেই ‘জুলাই সনদ’ না হলে ঐকমত্য কমিশন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দায়ী করা হবে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে যুবদলের বিক্ষোভে গোপালগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন বলেন, “আমরা ভাবিনি, ফ্যাসিবাদী পতিত শক্তি গণঅভ্যুত্থানের শক্তির ওপর হামলা করতে সাহস পাবে। কিন্তু হামলা হয়েছে।”
এনসিপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আপনারা আরও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করুন— আমরা চেয়েছি, চাই। আপনাদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হোক। তবে যেভাবে কর্মসূচি হচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে, কোনোভাবে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে দেখাতে চাওয়া হচ্ছে— সরকার কিছুই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।”
তিনি বলেন, “শাপলা প্রতীক না দেওয়ার কারণে নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। প্রশ্ন হলো— বাংলাদেশে আর কোনো মার্কা নেই? ধানের শীষ তো ১৯৭৮ সাল থেকেই তপশিলে আছে, সেটা কেউ প্রশ্ন করেনি।”
এনসিপিকে উদ্দেশ করে সালাহউদ্দিন বলেন, “আপনারা বলছেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে, অথচ সরকারে আপনাদের লোকই আছে। কাদের উদ্দেশে এই অভিযোগ?”
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ঐতিহ্য রক্ষার ডাক দিয়ে তিনি বলেন, “সারা দেশে এখন মবক্রেসির রাজত্ব চলছে। আমরা চাইছিলাম ডেমোক্রেসি, কিন্তু এখন হচ্ছে মবক্রেসি। কেন? কারণ সরকার নির্লিপ্ত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যর্থ।”
ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি বিএনপির সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “গণঅভ্যুত্থানকে কলঙ্কিত করতে চায় এমন একটি মহল সক্রিয় রয়েছে। তারা নানা ইস্যু তৈরি করে বিএনপিকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।”
তিনি বলেন, “লন্ডন বৈঠকের পর আমরা আশা করেছিলাম প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে প্রস্তুতির বার্তা দেবেন। কিন্তু এখনো তিনি তা আনুষ্ঠানিকভাবে দেননি। আমরা চাই, তিনি শিগগির ইসিকে অফিসিয়াল বার্তা পাঠাবেন।”
সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, “আমরা চাই এই নির্বাচন একটি আদর্শ মডেল হোক— অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ। যাতে করে কারও পক্ষপাত নিয়ে প্রশ্ন না ওঠে। কোনো গোষ্ঠী যেন নির্বাচন বানচাল বা বিলম্বিত করতে না পারে।”














