৫ আগস্ট হয়ে উঠুক মানবিক মানুষ হয়ে ওঠার অঙ্গীকারের দিন: তারেক রহমান
- আপডেট সময় : ০১:২৪:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫ ৮৮ বার পড়া হয়েছে

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আজ ও আগামীর প্রতিটি ‘৫ আগস্ট’ হয়ে উঠুক গণতন্ত্র, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবিক মানুষ হয়ে ওঠার অঙ্গীকারের দিন।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকীতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের এক ঘৃণ্যতম ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের দিন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, “বিজয়ীর কাছে পরাজিতরা নিরাপদ থাকলে বিজয়ের আনন্দ মহিমান্বিত হয়।” এসময় তিনি সবাইকে আহ্বান জানান, কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেন এবং মব ভায়োলেন্স বা নারীর প্রতি সহিংসতা উৎসাহিত না করেন।
তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ নিরাপদে থাকবে। আজকের দিনটি হোক একটি জবাবদিহিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র নির্মাণের শপথের দিন।”
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, ফ্যাসিস্ট শাসনের আমলে গুম, খুন, নির্যাতন, মামলা, বন্দুকযুদ্ধ, গোপন ‘আয়নাঘর’—সবকিছুই ছিল নৈমিত্তিক ঘটনা। বিএনপির নেতারা, যেমন সাবেক এমপি ইলিয়াস আলী এবং কমিশনার চৌধুরী আলম এখনও নিখোঁজ।
অর্থনীতি ধ্বংসের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “ব্যাংকগুলো দেউলিয়া করা হয়েছে, ২৮ লাখ কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার হয়েছে। রাষ্ট্রে ব্যক্তিতন্ত্র কায়েম করে লুটপাটকে নিয়মে পরিণত করা হয়েছিল।”
তারেক রহমান বলেন, “১৯৭১ সালে ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ সালে ছিল স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ। ২৪ জুলাইয়ের শহীদদের জাতি কোনোদিন ভুলবে না।”
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় জনগণের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে জবাবদিহিমূলক সরকার গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।”
আওয়ামী লীগের শাসনামলকে হিটলারের নাৎসিবাদের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, “যেমন হিটলার নিয়ে গর্ব করা যায় না, তেমনি পলাতক ফ্যাসিস্টের শাসন নিয়েও গর্ব করার কিছু নেই।”
তিনি দাবি করেন, “৫ আগস্ট দিনটি বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসেও একটি নজিরবিহীন ঘটনা। গণভবন, সংসদ, আদালত, বায়তুল মোকাররম ও মন্ত্রণালয় ছেড়ে শাসক এবং তার দোসররা পালিয়েছে। কিন্তু তবুও তাদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই।”
তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, “বাংলাদেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদ কায়েম হবে না। কাউকে গণতন্ত্র হত্যা করতে দেওয়া হবে না, বাংলাদেশকে আর কোনোদিন তাঁবেদার রাষ্ট্র বানাতে দেওয়া হবে না।”
রাজনৈতিক বিরোধের ক্ষেত্রে ইস্যুভিত্তিক মতপার্থক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তবে কোনো বিরোধ যেন ফ্যাসিবাদের উত্থানের কারণ না হয়, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দল ও জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে।”
তিনি বলেন, জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণযোগ্য হবে। স্থানীয় সরকার থেকে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত জনগণের সরাসরি ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে না পারলে রাষ্ট্রে প্রকৃত জনগণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হবে না।
শেষে তারেক রহমান বলেন, “রাষ্ট্র ও সরকারে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে জনগণকে শক্তিশালী করে তুলতে না পারলে কিছুই টেকসই হবে না। এখন সময় এসেছে—মানবিক, বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণে জনগণকেই কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার।”













