সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার শপথ প্রধান উপদেষ্টার

আইবি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৫৭:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫ ১০১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “আমরা কোনো ধরনের নিপীড়নের কাছে মাথা নোয়াবো না। আমরা প্রতিষ্ঠা করব একটি জবাবদিহিমূলক, মানবিক, গণতান্ত্রিক এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র, যা সবসময় জনকল্যাণে কাজ করবে।”

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন তিনি।

প্রফেসর ইউনূস বলেন, ৫ আগস্ট শুধু একটি দিন নয়, এটি একটি প্রতিজ্ঞা, গণজাগরণের উপাখ্যান এবং ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে জাতির পুনর্জন্মের দিন। তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, “স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পরেও এ দেশের মানুষ সুবিচার ও গণতন্ত্র থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বৈষম্যের শিকার হয়েছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৬ বছরে দেশের তরুণ সমাজ পুঞ্জীভূত হতাশায় নিমজ্জিত ছিল। ভালো ফলাফলের পরও চাকরির জন্য ক্ষমতাসীনদের কাছে ধরনা দিতে হয়েছে। যারা ঘুষ দিতে পারেনি কিংবা স্থানীয় মাফিয়াদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে পারেনি, তারা চাকরি পায়নি। কোটা পদ্ধতিকে তিনি দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির হাতিয়ার হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিটি সেক্টরে মাফিয়াতন্ত্র কায়েম করে সুবিধাভোগী একটি শ্রেণি তৈরি করা হয়েছে, যারা স্বৈরাচারের পক্ষে কাজ করেছে। দুর্নীতির কবলে পড়ে অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। আন্দোলনকারীদের দমন করতে পুলিশ ও দলীয় সন্ত্রাসীরা অস্ত্র হাতে মাঠে নেমেছে।

প্রফেসর ইউনূস অভিযোগ করেন, সরকারবিরোধী বক্তব্য দেওয়ায় নাগরিকদের গ্রেপ্তার, গুম ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। লাখো বিরোধী নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। ২৪ জুলাই ছাত্র-তরুণদের গণআন্দোলনের সময়ও সরকার দমন-পীড়নের পথ বেছে নেয়, গুলি চালায়, আহতদের হাসপাতালে নিতে বাধা দেয়, এমনকি হাসপাতালগুলোকে ভর্তি না করতে নির্দেশ দেয়। এতে বহু মানুষ চিরতরে দৃষ্টি হারিয়েছে, পঙ্গু হয়েছে।

তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবারের মধ্যে ৭৭৫টি পরিবারকে ৯৮ কোটি ৪০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ও মাসিক ভাতা দেওয়া হয়েছে এবং অবশিষ্ট পরিবারের সহায়তার প্রক্রিয়া চলছে। আহত ১৩ হাজার ৮০০ জন জুলাই যোদ্ধাকে নগদ অর্থসহ মোট ১৫৩ কোটি ৪ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত ৭৮ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হয়েছে এবং এ বাবদ ৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আজ আমরা অতীত স্মরণ করতে আসি নাই। আমরা শপথ গ্রহণ করতে এসেছি—এই রাষ্ট্র হবে মানবিক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন। শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না, তাদের স্বপ্নই হবে আগামীর বাংলাদেশ গঠনের ভিত্তি।”

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার শপথ প্রধান উপদেষ্টার

আপডেট সময় : ১২:৫৭:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫

 

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “আমরা কোনো ধরনের নিপীড়নের কাছে মাথা নোয়াবো না। আমরা প্রতিষ্ঠা করব একটি জবাবদিহিমূলক, মানবিক, গণতান্ত্রিক এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র, যা সবসময় জনকল্যাণে কাজ করবে।”

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন তিনি।

প্রফেসর ইউনূস বলেন, ৫ আগস্ট শুধু একটি দিন নয়, এটি একটি প্রতিজ্ঞা, গণজাগরণের উপাখ্যান এবং ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে জাতির পুনর্জন্মের দিন। তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, “স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পরেও এ দেশের মানুষ সুবিচার ও গণতন্ত্র থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বৈষম্যের শিকার হয়েছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৬ বছরে দেশের তরুণ সমাজ পুঞ্জীভূত হতাশায় নিমজ্জিত ছিল। ভালো ফলাফলের পরও চাকরির জন্য ক্ষমতাসীনদের কাছে ধরনা দিতে হয়েছে। যারা ঘুষ দিতে পারেনি কিংবা স্থানীয় মাফিয়াদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে পারেনি, তারা চাকরি পায়নি। কোটা পদ্ধতিকে তিনি দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির হাতিয়ার হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিটি সেক্টরে মাফিয়াতন্ত্র কায়েম করে সুবিধাভোগী একটি শ্রেণি তৈরি করা হয়েছে, যারা স্বৈরাচারের পক্ষে কাজ করেছে। দুর্নীতির কবলে পড়ে অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। আন্দোলনকারীদের দমন করতে পুলিশ ও দলীয় সন্ত্রাসীরা অস্ত্র হাতে মাঠে নেমেছে।

প্রফেসর ইউনূস অভিযোগ করেন, সরকারবিরোধী বক্তব্য দেওয়ায় নাগরিকদের গ্রেপ্তার, গুম ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। লাখো বিরোধী নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। ২৪ জুলাই ছাত্র-তরুণদের গণআন্দোলনের সময়ও সরকার দমন-পীড়নের পথ বেছে নেয়, গুলি চালায়, আহতদের হাসপাতালে নিতে বাধা দেয়, এমনকি হাসপাতালগুলোকে ভর্তি না করতে নির্দেশ দেয়। এতে বহু মানুষ চিরতরে দৃষ্টি হারিয়েছে, পঙ্গু হয়েছে।

তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবারের মধ্যে ৭৭৫টি পরিবারকে ৯৮ কোটি ৪০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ও মাসিক ভাতা দেওয়া হয়েছে এবং অবশিষ্ট পরিবারের সহায়তার প্রক্রিয়া চলছে। আহত ১৩ হাজার ৮০০ জন জুলাই যোদ্ধাকে নগদ অর্থসহ মোট ১৫৩ কোটি ৪ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত ৭৮ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হয়েছে এবং এ বাবদ ৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আজ আমরা অতীত স্মরণ করতে আসি নাই। আমরা শপথ গ্রহণ করতে এসেছি—এই রাষ্ট্র হবে মানবিক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন। শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না, তাদের স্বপ্নই হবে আগামীর বাংলাদেশ গঠনের ভিত্তি।”