সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

বালুতে পুঁতে ৪ কোটি আদায়ের অভিযোগে সাবেক বিএনপি নেতা ‘জনি’ বিপাকে

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৪১:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫ ১২৪ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

বালুতে পুঁতে রাখার ভয় দেখিয়ে ও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দুই দফায় চার কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে যশোরের অভয়নগরের নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির (পদ স্থগিত) সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান জনির বিরুদ্ধে। তার সঙ্গে নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের নামও উঠে এসেছে অভিযোগপত্রে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শাহনেওয়াজ কবীর টিপুর স্ত্রী মোছা. আসমা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, গত ২ সেপ্টেম্বর জনির অফিসে ডেকে তার স্বামীকে মারধর করে ও বন্দুক দেখিয়ে ২ কোটি টাকা আদায় করা হয়। সেই টাকা সাউথ বাংলা ব্যাংক থেকে সরাসরি জনির প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। এরপর ছেড়ে দেওয়া হয় টিপুকে।

পুনরায় ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে চলিশিয়া থেকে বাজারে যাওয়ার পথে টিপুকে আবার আটক করে জনির সহযোগীরা। এরপর ‘কনা ইকো পার্কে’ নিয়ে গিয়ে বালু চাপা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আরও ২ কোটি টাকা দাবি করা হয়। ভয়ে টিপু তার ম্যানেজারকে ফোনে টাকা পাঠাতে বলেন। ম্যানেজার ওইদিন সাংবাদিক মফিজের একাউন্টে ১ কোটি টাকা পাঠান—পূবালী ব্যাংক থেকে ৬৮ লাখ ও সাউথ বাংলা ব্যাংক থেকে ৩২ লাখ টাকা।

একইসাথে মফিজ আরও ১ কোটি টাকার একটি চেক আদায় করেন এবং জনি ও তার সহযোগীদের নামে ছয়টি ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর নেয়। প্রাণনাশের হুমকির মুখে কাউকে কিছু না জানানোর শর্তে সেদিন টিপুকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এই ঘটনায় গত ৩০ জুলাই অভয়নগর থানা ও পরদিন ৩১ জুলাই অভয়নগর আর্মি ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ দেন আসমা খাতুন। তবে থানা পুলিশ লিখিত অভিযোগ নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্তদের কারও মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি—তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, জনিকে আগেই সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এখন সে দলের কেউ নয় এবং তার কর্মকাণ্ডের দায় দল নেবে না।

অভয়নগর থানার ওসি আব্দুল আলিম বলেন, মৌখিকভাবে অভিযোগ পেয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

বালুতে পুঁতে ৪ কোটি আদায়ের অভিযোগে সাবেক বিএনপি নেতা ‘জনি’ বিপাকে

আপডেট সময় : ১০:৪১:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫

 

 

বালুতে পুঁতে রাখার ভয় দেখিয়ে ও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দুই দফায় চার কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে যশোরের অভয়নগরের নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির (পদ স্থগিত) সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান জনির বিরুদ্ধে। তার সঙ্গে নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের নামও উঠে এসেছে অভিযোগপত্রে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শাহনেওয়াজ কবীর টিপুর স্ত্রী মোছা. আসমা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, গত ২ সেপ্টেম্বর জনির অফিসে ডেকে তার স্বামীকে মারধর করে ও বন্দুক দেখিয়ে ২ কোটি টাকা আদায় করা হয়। সেই টাকা সাউথ বাংলা ব্যাংক থেকে সরাসরি জনির প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। এরপর ছেড়ে দেওয়া হয় টিপুকে।

পুনরায় ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে চলিশিয়া থেকে বাজারে যাওয়ার পথে টিপুকে আবার আটক করে জনির সহযোগীরা। এরপর ‘কনা ইকো পার্কে’ নিয়ে গিয়ে বালু চাপা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আরও ২ কোটি টাকা দাবি করা হয়। ভয়ে টিপু তার ম্যানেজারকে ফোনে টাকা পাঠাতে বলেন। ম্যানেজার ওইদিন সাংবাদিক মফিজের একাউন্টে ১ কোটি টাকা পাঠান—পূবালী ব্যাংক থেকে ৬৮ লাখ ও সাউথ বাংলা ব্যাংক থেকে ৩২ লাখ টাকা।

একইসাথে মফিজ আরও ১ কোটি টাকার একটি চেক আদায় করেন এবং জনি ও তার সহযোগীদের নামে ছয়টি ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর নেয়। প্রাণনাশের হুমকির মুখে কাউকে কিছু না জানানোর শর্তে সেদিন টিপুকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এই ঘটনায় গত ৩০ জুলাই অভয়নগর থানা ও পরদিন ৩১ জুলাই অভয়নগর আর্মি ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ দেন আসমা খাতুন। তবে থানা পুলিশ লিখিত অভিযোগ নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্তদের কারও মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি—তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, জনিকে আগেই সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এখন সে দলের কেউ নয় এবং তার কর্মকাণ্ডের দায় দল নেবে না।

অভয়নগর থানার ওসি আব্দুল আলিম বলেন, মৌখিকভাবে অভিযোগ পেয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।