সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

“সংসদে কুরআনের পক্ষের শক্তিকে বিজয়ী করতে হবে”—জামায়াত নেতার আহ্বান

আইবি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:১৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫ ৯০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে “কুরআনের পক্ষের শক্তিকে” বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের মানুষের প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জনের জন্য “মানবরচিত মতবাদকে দাফন করতে হবে” এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় কুরআনের বিধান প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান : প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ও করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে প্রকাশিত বই ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতার শহীদ ও আহত যারা’র ইংরেজি ও আরবি ভার্সনের মোড়ক উন্মোচন করা হয় এবং একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, “১৯৭১ সালে আমরা প্রথম স্বাধীনতা অর্জন করেছি, কিন্তু মানুষ এখনো মানুষের গোলাম। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয়েছি। আমাদের সামনে এখন তৃতীয় স্বাধীনতার লড়াই।” তিনি বলেন, দেশের মানুষের সম্মান, কল্যাণ ও প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হলে সংসদে কুরআনের পক্ষের শক্তিকে বিজয়ী করতে হবে।

তিনি শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “জুলাইয়ের শহীদদের আদর্শকে অনুসরণ করে প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করতে হবে।”

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থান একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার, পারস্পরিক সহমর্মিতা এবং ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরি না হলে এই অর্জন টেকসই হবে না।”

তিনি জুলাই সনদের দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি, দলীয়করণমুক্ত প্রশাসন ও ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্র কাঠামো গঠনের মাধ্যমে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অধিকাংশ হত্যাকারী এখনও গ্রেফতার হয়নি। তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।”

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা আশরাফ আলী আকন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

আশরাফ আলী আকন বলেন, “১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ জাতির ওপর শোষণ, লুটপাট ও নির্যাতন চালিয়েছে। জনগণের প্রকৃত মুক্তি আসেনি।”

নাসীরুদ্দীন পটওয়ারী বলেন, “ঘুষ-দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে হলে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম দরকার। আওয়ামী লীগের শাসনে মুসলমানদের জঙ্গি আখ্যা দিয়ে দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে।”

সেমিনার সঞ্চালনায় ছিলেন জামায়াতের মিডিয়া প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম।

সেমিনারে জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবার, আহত ব্যক্তি ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

“সংসদে কুরআনের পক্ষের শক্তিকে বিজয়ী করতে হবে”—জামায়াত নেতার আহ্বান

আপডেট সময় : ১২:১৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫

 

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে “কুরআনের পক্ষের শক্তিকে” বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের মানুষের প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জনের জন্য “মানবরচিত মতবাদকে দাফন করতে হবে” এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় কুরআনের বিধান প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান : প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ও করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে প্রকাশিত বই ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতার শহীদ ও আহত যারা’র ইংরেজি ও আরবি ভার্সনের মোড়ক উন্মোচন করা হয় এবং একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, “১৯৭১ সালে আমরা প্রথম স্বাধীনতা অর্জন করেছি, কিন্তু মানুষ এখনো মানুষের গোলাম। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয়েছি। আমাদের সামনে এখন তৃতীয় স্বাধীনতার লড়াই।” তিনি বলেন, দেশের মানুষের সম্মান, কল্যাণ ও প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হলে সংসদে কুরআনের পক্ষের শক্তিকে বিজয়ী করতে হবে।

তিনি শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “জুলাইয়ের শহীদদের আদর্শকে অনুসরণ করে প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করতে হবে।”

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থান একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার, পারস্পরিক সহমর্মিতা এবং ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরি না হলে এই অর্জন টেকসই হবে না।”

তিনি জুলাই সনদের দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি, দলীয়করণমুক্ত প্রশাসন ও ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্র কাঠামো গঠনের মাধ্যমে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অধিকাংশ হত্যাকারী এখনও গ্রেফতার হয়নি। তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।”

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা আশরাফ আলী আকন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

আশরাফ আলী আকন বলেন, “১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ জাতির ওপর শোষণ, লুটপাট ও নির্যাতন চালিয়েছে। জনগণের প্রকৃত মুক্তি আসেনি।”

নাসীরুদ্দীন পটওয়ারী বলেন, “ঘুষ-দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে হলে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম দরকার। আওয়ামী লীগের শাসনে মুসলমানদের জঙ্গি আখ্যা দিয়ে দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে।”

সেমিনার সঞ্চালনায় ছিলেন জামায়াতের মিডিয়া প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম।

সেমিনারে জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবার, আহত ব্যক্তি ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।