উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতির প্রস্তাবে একমত এনসিপি
- আপডেট সময় : ০১:২৩:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ অগাস্ট ২০২৫ ৯৯ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় অংশ নিয়ে তাঁদের দল উচ্চকক্ষে প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতির প্রস্তাবকে সমর্থন করেছে। তবে তিনি বলেন, বাস্তবায়নের পদ্ধতি এখনও স্পষ্ট নয় এবং এটি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে খোলামেলা ও কার্যকর আলোচনা জরুরি।
বৃহস্পতিবার কমিশনের সঙ্গে সংলাপের মধ্যাহ্ন বিরতিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আখতার হোসেন বলেন, “সময়ের সীমা না দিয়ে তৎক্ষণাৎ বাস্তবায়নের দাবিতে আমরা কমিশনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছি। বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি অস্পষ্টতা রয়েছে।”
তিনি বলেন, “সরকারি কর্ম কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, মহাহিসাব নিরীক্ষকসহ বেশ কিছু সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সংস্কারের বিষয়ে আজ আলোচনা হয়েছে। মতপার্থক্য থাকলেও কমিশন এক ধরনের ঐকমত্যের ভিত্তি তৈরি করতে পেরেছে।”
আলোচনার এক পর্যায়ে উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়টি ওঠে। সেখানে কমিশন ১০০ আসনের একটি উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব দেয়, যেখানে প্রতিনিধিরা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচিত হবেন। কমিশনের প্রস্তাবে বলা হয়, উচ্চকক্ষে নিম্নকক্ষের বিল সর্বোচ্চ দুই মাস আটকে রাখা যাবে এবং সংবিধান সংশোধনের জন্য সিম্পল মেজরিটি যথেষ্ট হবে।
তবে জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে উচ্চকক্ষে সংবিধান সংশোধনের জন্য টু-থার্ডস মেজরিটির দাবি জানানো হয়েছে। আখতার হোসেন বলেন, “পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচিতরা বৈধ নয়—এমন ধারণা সঠিক নয়। সারা বিশ্বেই পিআর ও এফপিটিপি—উভয় পদ্ধতির মাধ্যমে বৈধ প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে থাকেন।”
তিনি বলেন, “যেসব দল এক শতাংশ ভোট পাবে, তারা যেন একজন করে প্রতিনিধি দিতে পারে। এতে করে উচ্চকক্ষ সত্যিকারের বহুদলীয় কাঠামো পাবে এবং আইনের খসড়াগুলো নিয়ে আরও পরিশীলিত আলোচনা সম্ভব হবে।”
আখতার হোসেন বলেন, “আমরা চাই না, আর একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন হোক। বরং পিআর পদ্ধতিতে বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিত্ব থাকলে, বৃহত্তর জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হবে।”
তিনি বলেন, “বর্তমানে একটি আইন নিম্নকক্ষে পাস হলে, তা আর কোথাও আলোচিত হয় না। কিন্তু উচ্চকক্ষে যদি ব্যাপক আলোচনার সুযোগ থাকে, তাহলে আইন প্রণয়ন আরও পরিশীলিত হবে এবং তা জনগণের সামনে স্বচ্ছ থেকে গৃহীত হবে।”
তাঁর বক্তব্য, “বাংলাদেশের রাজনীতি যেন সংঘাত নয়, বরং নীতিনির্ভর ও সংলাপনির্ভর হয়—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতির মাধ্যমে তা সম্ভব।”














