আমরা ধর্মীয় সম্প্রীতির, ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে চাই: নাহিদ ইসলাম
- আপডেট সময় : ০৭:২২:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫ ৭৭ বার পড়া হয়েছে

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আমরা ধর্মীয় সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে চাই, ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে চাই, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চাই।’
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের নিরালা মোড়ে জুলাই পদযাত্রার অংশ হিসেবে আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘রংপুরে হিন্দু জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা, লুটপাট হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। নবীজিকে কটূক্তির অভিযোগে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। কিন্তু সেই অভিযোগের অজুহাতে গোটা সম্প্রদায়কে আঘাত করা, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া—এই অপরাধ ইসলাম সমর্থন করে না। আমাদের নবীজি (সা.) কখনোই অন্য ধর্মাবলম্বীদের ওপর আঘাত করেননি, বরং নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘এই ধরনের হামলার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। এটা আওয়ামী লীগের পুরোনো রাজনীতি—সংখ্যালঘুদের জমি দখল, লুটপাট ও বিচারহীনতার রাজনীতি।’
মওলানা ভাসানী প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘মওলানা ভাসানী না থাকলে শেখ মুজিব সৃষ্টি হতো না। ’৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম কারিগর ছিলেন ভাসানী। তিনি কেবল রাজনীতিবিদ নন, রাজনৈতিক দার্শনিকও ছিলেন। আমরা তাঁকেই বাংলাদেশের অন্যতম জাতির পিতা হিসেবে মনে করি।’
সমাবেশে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম অভিযোগ করেন, ‘বছরের পর বছর ফ্যাসিবাদের পছন্দের কিছু জেলা বাদে বাকি জেলাগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে। টাঙ্গাইলের মতো ঐতিহ্যবাহী জেলাকে ব্যক্তি ও দলের স্বার্থে বিসর্জন দেওয়া হয়েছে।’
তিনি প্রশাসন ও মিডিয়ার উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা ’২৪-পরবর্তী বাংলাদেশে প্রশাসনকে কোনো ব্যক্তি বা দলের পক্ষে নয়, দেশের পক্ষে দেখতে চাই। মিডিয়াকে আর প্রোপাগান্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হতে দেওয়া যাবে না।’
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক নাহিদা সারওয়ার, উত্তরাঞ্চলের জ্যেষ্ঠ সংগঠক সাইফুল্লাহ হায়দার, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক অলীক মৃ, সংগঠক আজাদ খান ভাসানী, কেন্দ্রীয় সদস্য সালাহউদ্দিন ও মাসুদুর রহমান।
দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ উপস্থিত থাকলেও অসুস্থতার কারণে বক্তব্য দেননি।
সমাবেশের আগে সকালে একটি হোটেলে জুলাই আন্দোলনে টাঙ্গাইলে শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন কেন্দ্রীয় নেতারা। দুপুর ১২টার দিকে শামসুল হক তোরণের সামনে থেকে পদযাত্রা শুরু হয়, এতে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন।
পদযাত্রা ও সমাবেশকে ঘিরে শহরে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়। সোমবার থেকেই পুলিশি টহল বাড়ানো হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে প্রহরা বসানো হয়।
গতকাল রাতেই এনসিপির নেতারা টাঙ্গাইলে পৌঁছে সন্তোষে মওলানা ভাসানীর কবর জিয়ারত করেন।













