সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষে আহত দুই শতাধিক, প্রো-ভিসি ও প্রক্টরসহ

আইবি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:৪০:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫ ১২৭ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের দফায় দফায় সংঘর্ষে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফসহ অন্তত দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। শনিবার (৩০ আগস্ট) রাত থেকে রবিবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এই সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

চবি মেডিক্যাল সেন্টার সূত্র জানায়, দুই দিনে আহতের সংখ্যা দুই শতাধিক ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিকেলে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‌্যাব ক্যাম্পাসে মোতায়েন করা হয়।

রবিবার বিকেলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথবাহিনী অভিযান চালায়। এ সময় অন্তত ১০টি গাড়িতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রবেশ করেন।

সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায়। স্থানীয় এক দারোয়ানের সঙ্গে নারী শিক্ষার্থীর দুর্ব্যবহারকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানালে তাদের সঙ্গে স্থানীয়দের ধস্তাধস্তি হয়। ছোট এই ঘটনা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন বলেন, “স্থানীয়দের হামলায় কয়েক শত শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত করতে গেলে আমরাও হামলার শিকার হই। দীর্ঘদিন শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করছে। আমি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”

হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন রবিবার দুপুর ২টা থেকে সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা পর্যন্ত এই আদেশ জারি করেন।

সংঘর্ষে আহতদের চিকিৎসা ও খাবারের ব্যবস্থা করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান তৃণা জানান, “আমরা আহতদের চিকিৎসা ও খাবারের ব্যবস্থা করেছি। অনেককে আবাসিক হলে নিরাপদে স্থানান্তর করা হয়েছে।”

রবিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি সমাধানে আলোচনা করে। বর্তমানে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

এসইউটি/

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষে আহত দুই শতাধিক, প্রো-ভিসি ও প্রক্টরসহ

আপডেট সময় : ০৮:৪০:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের দফায় দফায় সংঘর্ষে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফসহ অন্তত দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। শনিবার (৩০ আগস্ট) রাত থেকে রবিবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এই সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

চবি মেডিক্যাল সেন্টার সূত্র জানায়, দুই দিনে আহতের সংখ্যা দুই শতাধিক ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিকেলে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‌্যাব ক্যাম্পাসে মোতায়েন করা হয়।

রবিবার বিকেলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথবাহিনী অভিযান চালায়। এ সময় অন্তত ১০টি গাড়িতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রবেশ করেন।

সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায়। স্থানীয় এক দারোয়ানের সঙ্গে নারী শিক্ষার্থীর দুর্ব্যবহারকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানালে তাদের সঙ্গে স্থানীয়দের ধস্তাধস্তি হয়। ছোট এই ঘটনা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন বলেন, “স্থানীয়দের হামলায় কয়েক শত শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত করতে গেলে আমরাও হামলার শিকার হই। দীর্ঘদিন শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করছে। আমি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”

হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন রবিবার দুপুর ২টা থেকে সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা পর্যন্ত এই আদেশ জারি করেন।

সংঘর্ষে আহতদের চিকিৎসা ও খাবারের ব্যবস্থা করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান তৃণা জানান, “আমরা আহতদের চিকিৎসা ও খাবারের ব্যবস্থা করেছি। অনেককে আবাসিক হলে নিরাপদে স্থানান্তর করা হয়েছে।”

রবিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি সমাধানে আলোচনা করে। বর্তমানে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

এসইউটি/