সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

নীল পতাকার ছায়ায় ঢাকা এক অদৃশ্য শক্তির নীরব অগ্রযাত্রা

জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান, কন্ট্রিবিউটিং রিপোর্টার, মিশর:
  • আপডেট সময় : ১১:০৩:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫ ১১১ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

ঢাকার আকাশে জাতিসংঘের মিশনের নাম উচ্চারিত হতেই বাতাস যেন অন্য রঙে ভিজে উঠেছে। নীল পতাকার মৃদু দোলার ভেতর অচেনা এক স্রোত বইছে। শান্তির প্রতিশ্রুতির আড়ালে সেখানে আছে এক অদৃশ্য চলন, যা ইতিহাসের অন্ধকার পাতাগুলো উল্টে দেয়। যে দরজা আজ খুলছে, সেই দরজা একদিকে আশার আলো ছড়ালেও অন্যদিকে লুকিয়ে রাখে অজানা আঁধারের ছায়া।

জাতিসংঘের মিশনের পথে হাঁটা প্রতিটি দেশ জানে, এই আগমন কখনো কেবল সাদা কাগজের প্রতিশ্রুতি নয়। বসনিয়ার কুয়াশা, রুয়ান্ডার শোকভেজা মাঠ, কঙ্গোর লাল ধুলো—সবই সাক্ষী। শান্তির পতাকা সেখানে বয়ে এনেছে শুধু সুর নয়, এনেছে অদৃশ্য শৃঙ্খল। চোখে না দেখা সেই বাঁধন ধীরে ধীরে দেশের নিজস্ব সুরকে ভেঙে দিয়েছে, তার সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা মুছে দিয়েছে। বাংলাদেশ আজ সেই একই করিডরের মুখে দাঁড়িয়ে, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপই ভবিষ্যতের ইতিহাস গড়বে অথবা মুছে দেবে।

এই প্রেক্ষাপটে আমেরিকার ছায়া যেন আরও গাঢ়। জাতিসংঘের পতাকা যখন নামে, বড় শক্তির স্বর সেখানে নিঃশব্দে গেঁথে থাকে। আর আমেরিকা প্রমাণ করেছে, আধিপত্যের জন্য তার সবসময় সৈন্য লাগে না; অনেক সময় লাগে কেবল একটি সুর, একটি প্রতীক। তাদের জাতীয় সংগীতের ভেতরে লুকিয়ে থাকা বর্ণবৈষম্যের ক্ষত ইতিহাসের কালো আয়না হয়ে দাঁড়ায়। সেই সংস্কৃতি যদি শান্তির নামে আমাদের ভেতরে প্রবেশ করে, তা শুধু কূটনীতির নয়—তা হবে আত্মার গভীরে ঢুকে পড়া এক নীরব সাম্রাজ্য। তখন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের নিজস্ব সুর কি আর নিজের থাকবে, নাকি তা হয়ে যাবে অন্যের হাতে লেখা অনুবাদ?

বাংলাদেশের মাটির ইতিহাস রক্তের নয়, সৃষ্টির। তার আত্মা যুদ্ধ নয়, জীবনের স্বপ্ন দেখে। কিন্তু যখন আন্তর্জাতিক পতাকার ছায়া ঘনিয়ে আসে, তখন প্রতিটি শ্বাসের সঙ্গে মিশে যায় অচেনা এক শীতলতা। আজকের এই সিদ্ধান্ত শুধু রাজনীতির টেবিলের নয়; এটি ভবিষ্যতের জাতীয় সুরের ভাষা ঠিক করবে। যদি সত্যিকারের শান্তি আসে, তা হবে উৎসবের মতো। কিন্তু যদি সেই শান্তির ভেতর ঢুকে পড়ে নিঃশব্দ এক আধিপত্যের সুর, তবে একদিন হয়তো আমরা নিজের গান গাইব, কিন্তু তাতে নিজের সত্তার প্রতিধ্বনি থাকবে না।

ঢাকার আকাশের নিচে আজ সেই মুহূর্ত দাঁড়িয়ে আছে। নীল পতাকার ছায়া লম্বা হচ্ছে, তার নীরব চলন শহরের প্রতিটি ইটের ভেতর ঢুকে যাচ্ছে। ইতিহাস অপেক্ষা করছে—এই পদক্ষেপ কি বাংলাদেশের আত্মাকে রক্ষা করবে, নাকি ধীরে ধীরে তাকে অন্যের ছন্দে বেঁধে দেবে।

 

লেখক ও কলামিস্ট, শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, কায়রো, মিশর।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

নীল পতাকার ছায়ায় ঢাকা এক অদৃশ্য শক্তির নীরব অগ্রযাত্রা

আপডেট সময় : ১১:০৩:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫

 

ঢাকার আকাশে জাতিসংঘের মিশনের নাম উচ্চারিত হতেই বাতাস যেন অন্য রঙে ভিজে উঠেছে। নীল পতাকার মৃদু দোলার ভেতর অচেনা এক স্রোত বইছে। শান্তির প্রতিশ্রুতির আড়ালে সেখানে আছে এক অদৃশ্য চলন, যা ইতিহাসের অন্ধকার পাতাগুলো উল্টে দেয়। যে দরজা আজ খুলছে, সেই দরজা একদিকে আশার আলো ছড়ালেও অন্যদিকে লুকিয়ে রাখে অজানা আঁধারের ছায়া।

জাতিসংঘের মিশনের পথে হাঁটা প্রতিটি দেশ জানে, এই আগমন কখনো কেবল সাদা কাগজের প্রতিশ্রুতি নয়। বসনিয়ার কুয়াশা, রুয়ান্ডার শোকভেজা মাঠ, কঙ্গোর লাল ধুলো—সবই সাক্ষী। শান্তির পতাকা সেখানে বয়ে এনেছে শুধু সুর নয়, এনেছে অদৃশ্য শৃঙ্খল। চোখে না দেখা সেই বাঁধন ধীরে ধীরে দেশের নিজস্ব সুরকে ভেঙে দিয়েছে, তার সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা মুছে দিয়েছে। বাংলাদেশ আজ সেই একই করিডরের মুখে দাঁড়িয়ে, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপই ভবিষ্যতের ইতিহাস গড়বে অথবা মুছে দেবে।

এই প্রেক্ষাপটে আমেরিকার ছায়া যেন আরও গাঢ়। জাতিসংঘের পতাকা যখন নামে, বড় শক্তির স্বর সেখানে নিঃশব্দে গেঁথে থাকে। আর আমেরিকা প্রমাণ করেছে, আধিপত্যের জন্য তার সবসময় সৈন্য লাগে না; অনেক সময় লাগে কেবল একটি সুর, একটি প্রতীক। তাদের জাতীয় সংগীতের ভেতরে লুকিয়ে থাকা বর্ণবৈষম্যের ক্ষত ইতিহাসের কালো আয়না হয়ে দাঁড়ায়। সেই সংস্কৃতি যদি শান্তির নামে আমাদের ভেতরে প্রবেশ করে, তা শুধু কূটনীতির নয়—তা হবে আত্মার গভীরে ঢুকে পড়া এক নীরব সাম্রাজ্য। তখন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের নিজস্ব সুর কি আর নিজের থাকবে, নাকি তা হয়ে যাবে অন্যের হাতে লেখা অনুবাদ?

বাংলাদেশের মাটির ইতিহাস রক্তের নয়, সৃষ্টির। তার আত্মা যুদ্ধ নয়, জীবনের স্বপ্ন দেখে। কিন্তু যখন আন্তর্জাতিক পতাকার ছায়া ঘনিয়ে আসে, তখন প্রতিটি শ্বাসের সঙ্গে মিশে যায় অচেনা এক শীতলতা। আজকের এই সিদ্ধান্ত শুধু রাজনীতির টেবিলের নয়; এটি ভবিষ্যতের জাতীয় সুরের ভাষা ঠিক করবে। যদি সত্যিকারের শান্তি আসে, তা হবে উৎসবের মতো। কিন্তু যদি সেই শান্তির ভেতর ঢুকে পড়ে নিঃশব্দ এক আধিপত্যের সুর, তবে একদিন হয়তো আমরা নিজের গান গাইব, কিন্তু তাতে নিজের সত্তার প্রতিধ্বনি থাকবে না।

ঢাকার আকাশের নিচে আজ সেই মুহূর্ত দাঁড়িয়ে আছে। নীল পতাকার ছায়া লম্বা হচ্ছে, তার নীরব চলন শহরের প্রতিটি ইটের ভেতর ঢুকে যাচ্ছে। ইতিহাস অপেক্ষা করছে—এই পদক্ষেপ কি বাংলাদেশের আত্মাকে রক্ষা করবে, নাকি ধীরে ধীরে তাকে অন্যের ছন্দে বেঁধে দেবে।

 

লেখক ও কলামিস্ট, শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়, কায়রো, মিশর।