একটি সিগারেটেই কমছে ২০ মিনিট আয়ু: যুক্তরাজ্য ভিত্তিক গবেষণা
- আপডেট সময় : ০২:৫৯:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫ ১২৪ বার পড়া হয়েছে

ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে নতুন এক গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রতিটি সিগারেট একজন মানুষের গড়ে প্রায় ২০ মিনিট আয়ু কমিয়ে দেয়।
পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রতি সিগারেটে আয়ু কমে গড়ে ১৭ মিনিট এবং নারীদের ক্ষেত্রে প্রায় ২২ মিনিট। এ তথ্য সম্প্রতি অ্যাডিকশন জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষণা দলের প্রধান লেখক ও ইউসিএল অ্যালকোহল অ্যান্ড টোব্যাকো রিসার্চ গ্রুপের ফেলো ডা. সারা জ্যাকসন জানান, “কেউ যদি দিনে এক প্যাকেট (২০টি) সিগারেট খান, তবে তার আয়ু প্রায় ৭ ঘণ্টা কমে যায়। এর মানে তিনি প্রিয়জনদের সঙ্গে সুস্থভাবে কাটানোর সময়টাই হারাচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন, ধূমপান শুধু জীবনের শেষ সময়টুকুই কমিয়ে দেয় না, বরং জীবনের মাঝামাঝি সুস্থ সময়ও কেড়ে নেয়। অর্থাৎ আয়ু কমার অংশটা আসলে সুস্থ জীবনের ভেতরেই হারিয়ে যাচ্ছে।
এই গবেষণায় ব্যবহৃত হয়েছে ব্রিটিশ ডক্টরস স্টাডি এবং মিলিয়ন উইমেন স্টাডির তথ্য। উভয় ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, সারাজীবন ধূমপানকারীদের আয়ু গড়ে ধূমপান না করা মানুষের তুলনায় অন্তত ১০ বছর কম। একই ধরনের ফলাফল দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রেও। ইউএস সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের তথ্যমতে, ধূমপায়ীদের আয়ু সাধারণত কমপক্ষে ১০ বছর কম হয়।
ডা. জ্যাকসন বলেন, “কেউ যদি তরুণ বয়সে (২০–৩০ বছর) ধূমপান ছেড়ে দেন, তবে তাদের আয়ু প্রায় ধূমপান না করা মানুষের সমান হতে পারে। তবে বয়স বাড়লে ধূমপান ছাড়লেও পুরোপুরি হারানো সময় ফেরত পাওয়া যায় না।”
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, প্রতিদিন ১০টি সিগারেট খাওয়া কেউ যদি মাসের শুরুতেই ধূমপান ছেড়ে দেন, তবে মাত্র এক সপ্তাহ পরই তিনি এক দিনের আয়ু বাঁচাতে পারেন। বছরের শেষে এভাবে প্রায় ৫০ দিন আয়ু হারানো এড়ানো সম্ভব।
এদিকে, নেচার জার্নালে প্রকাশিত আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপান স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়। এতে সংক্রমণ, ক্যানসার ও অটোইমিউন রোগের ঝুঁকি বাড়ে। তবে ধূমপান ছাড়লে ধীরে ধীরে ইমিউন সিস্টেম আগের অবস্থায় ফিরে আসতে শুরু করে।
গবেষক ডা. ড্যারাহ ডাফি বলেন, “ধূমপান শুরু করার মতো সময় কখনোই ভালো নয়। আর যারা ধূমপায়ী, তাদের জন্য ধূমপান ছাড়ার সেরা সময় হলো এখনই।”
তথ্যসূত্র: সিএনএন
এসইউটি/












