জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হলো মানিকগঞ্জ ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার প্রথম পুনর্মিলনী
- আপডেট সময় : ০১:২৭:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫ ১৫৬ বার পড়া হয়েছে

মানিকগঞ্জ ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার ১ম পুনর্মিলনী–২০২৫ যেন একটি প্রতিষ্ঠানিক ঐতিহ্য। যেখানে সময়ের স্রোত ফিরে এসে অতীতের আলোকধারাকে নতুন করে জ্বালিয়ে তোলে। এই মাদরাসা কেবল একটি শিক্ষালয় নয়—এটি এক ঐতিহ্যের দোলনা, এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে জ্ঞানের প্রদীপ হস্তান্তরের পবিত্র মঞ্চ। এখান থেকে বেরিয়ে গেছেন পরিচিত–অপরিচিত হাজারো ওলামায়ে কেরাম, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাংকার, শিল্পোদ্যোগী, কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর, প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ। মানিকগঞ্জের মাটিতে এটি এক গৌরবময় আলোকস্তম্ভ।
মানিকগঞ্জের পরিবার–পরম্পরার সঙ্গে এই মাদরাসার সম্পর্ক যেন রক্তের বন্ধন। দাদা–নানা থেকে শুরু করে বাবা–মা, চাচা–খালা, মামা–খালু—অসংখ্য পরিবার-শাখা এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাসুধায় নিজেদের পরিপূর্ণ করেছে। জ্ঞানসাধনার এই দীর্ঘ যাত্রা আজও সমানভাবে প্রবহমান।
এই ১ম পুনর্মিলনী দিনের প্রভাতে ক্যাম্পাস থেকে বের হয় আনন্দ-র্যালি—যেন সময়ের উপর দিয়ে হেঁটে যাওয়া স্মৃতির বহর। বর্তমান শিক্ষার্থীদের একাংশ এবং আগত অতিথিরা র্যালিতে অংশ নিয়ে সৃষ্টি করেন প্রজন্ম–সমন্বয়ের এক মনোরম দৃশ্য। মাদরাসার লগো-খচিত কটি সকলের কাঁধে ঝুলে ঐতিহ্যের সৌন্দর্যকে আরও নান্দনিক করে তোলে।
র্যালি শেষে মানিকগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। সকালের পরিপূর্ণ নাশতার পর মঞ্চে আসেন সম্মানিত প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অতিথিবৃন্দ। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের সম্মানিত চেয়ারম্যান, বিভিন্ন রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিসহ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ—অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সহকারী অধ্যাপক ও লেকচারারগণ। তাঁদের বক্তব্যে প্রতিফলিত হয় সময়, সমাজ, জ্ঞান ও নৈতিকতার গভীর দার্শনিকতা।
বিনোদনের পর্বটি হয়ে ওঠে আধ্যাত্মিক শিল্পধারার এক সুধাময় আসর—হামদ, নাত, নাশীদ, কাওয়ালী, ম্যাগাজিন পাঠ—সব মিলিয়ে যেন রচা হয় হৃদয়ে নিবিষ্ট এক সুচিন্তিত সাংস্কৃতিক সৌন্দর্য। দুপুরে পরিবেশন করা হয় উন্নত মানের খাবার, যা মিলনের উষ্ণতাকে আরো দৃঢ় করে।
সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত—স্মারকলিপি প্রদান অনুষ্ঠান। ১৯৮০ সালের পূর্বে দাখিল পাস করা প্রবীণ অতিথিরা এতে বিশেষভাবে সম্মানিত হন। স্মারকলিপিতে উঠে আসে স্মৃতিচারণ, প্রজ্ঞাময় উপদেশ এবং ধর্মীয় মূল্যবোধে সমৃদ্ধ দিকনির্দেশনা। ফটোসেশনে ধরা পড়ে সময়ের সঞ্চিত আবেগ। স্মারকলিপির ব্যাগ—শৈল্পিক পাটের নির্মিত এক সুন্দর নিদর্শন—অনুষ্ঠানকে এক মাটির-ঘ্রাণমাখা নান্দনিকতা দান করে।
সন্ধ্যা নামতেই শুরু হয় জমকালো নাশীদ সন্ধ্যা—আত্মাকে ছুঁয়ে যাওয়া সুরের এক গোধূলি। সেদিনের সঙ্গীতরাত্রি যেন মনে করিয়ে দেয়—সুস্থ সংস্কৃতি মানবিকতার দ্বার উন্মুক্ত করে দেয়, সমাজের অন্তরকে আলোকিত করে।
এইভাবেই ইতি টানা হয় পুনর্মিলনীর অধ্যায়। কিন্তু এই ইতি আসলে এক নতুন সূচনা। প্রার্থনা—এই মিলনমেলার ধারা যেন বারবার ফিরে আসে, হৃদয়ের প্রাঙ্গণকে আলোকিত করে।
islamicbdnews.com/SUT










