সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

ইসলামী শরীয়াহ—আমাদের জীবনের পথপ্রদর্শক

মুহাম্মদ আম্মার হোসাইন
  • আপডেট সময় : ০৩:২০:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫ ৩৩৫ বার পড়া হয়েছে

ছবি: ফাইল

অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

ইসলামী শরীয়াহ শুধু কিছু আইন-কানুনের নাম নয়, বরং এটি আল্লাহর হুকুম ও রাসূলুল্লাহ (স.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। শরীয়াহ ছাড়া মুসলিমের জীবন কল্পনাও করা যায় না।

ব্যক্তিগত জীবনে শরীয়াহ হালাল হারাম ও ন্যায়-অন্যায়ের স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে খাওয়া-দাওয়া, পোশাক-পরিচ্ছদ, লেনদেন ও বিবাহে শুদ্ধতা আনে। পারিবারিক জীবনে স্বামী-স্ত্রীর অধিকার, সন্তান প্রতিপালন ও উত্তরাধিকার নির্ধারণের মাধ্যমে শান্তি ও ভালোবাসা প্রতিষ্ঠা করে। সামাজিক জীবনে জুলুম, সুদ, ঘুষ ও হত্যাকে নিষিদ্ধ করে ন্যায়, নিরাপত্তা ও ভ্রাতৃত্ব গড়ে তোলে। অর্থনীতিতে সুদমুক্ত লেনদেন, যাকাত ও ইনসাফের নীতি বৈষম্য দূর করে। আর রাষ্ট্র ও বিচারব্যবস্থায় আইন, অপরাধের শাস্তি, যুদ্ধ-শান্তি ও নীতিনির্ধারণের পূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করে। সামগ্রিকভাবে শরীয়াহ দ্বীন, জীবন, বুদ্ধি, বংশধারা ও সম্পদ সুরক্ষার মাধ্যমে মানবকল্যাণ নিশ্চিত করে এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা করে।

কিন্তু আজকের দুঃখজনক বাস্তবতা হলো- মুসলিম বিশ্বে শরীয়াহর পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগ প্রায় বিলুপ্তপ্রায়। অনেকেই নির্লজ্জভাবে বলে বসে, “আমরা শরীয়াহ আইন মানি না।” অথচ এটি বলা মাত্রই একজন মানুষ ইসলামী আকীদার আলোকে মুরতাদ বিবেচিত হয়।

অথচ রাব্বুল আলামীন সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন:

“যে কেউ আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা অনুযায়ী বিচার করে না, তারাই কাফির।” (সূরা মায়েদা: ৪৪)

রাসূলুল্লাহ (স.) বারবার সতর্ক করেছেন যে শরীয়াহ ছাড়া ঈমান পূর্ণ হয় না। চার ইমামও একমত হয়েছেন যে –

শরীয়াহর সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো বিধান অস্বীকার করলে সে কাফের হবে। শরীয়াহকে স্বীকার করেও যদি কেউ আমল না করে, তবে সে বড় গুনাহগার, জালিম ও ফাসিক।

আর শরীয়াহকে অপ্রযোজ্য, পুরোনো বা বাতিল মনে করা সর্বসম্মতভাবে কুফর।

তাহলে স্পষ্ট হলো—শরীয়াহ মানা ছাড়া মুসলিম জীবনের কোনো মূল্য নেই। মুসলিম জাতির গৌরব, ঐতিহ্য ও মুক্তির পথ একমাত্র শরীয়াহর মধ্যেই নিহিত। অথচ আজ আরব বিশ্বের বড় অংশ ইয়াহুদী ও খ্রিস্টান শক্তির তোষামোদে মগ্ন, নিজেদের সম্মান ও ইতিহাস বিস্মৃত করছে।

আমাদের কর্তব্য হলো, সর্বদা শরীয়াহর নির্দেশ মেনে জীবন পরিচালনা করা, তার অস্বীকার তো চিন্তাতেও না আনা। বরং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত হৃদয়ে আকাঙ্ক্ষা রাখতে হবে, আল্লাহর জমিনে তাঁর শরীয়াহর শাসন প্রতিষ্ঠা করার।

শরীয়াহই আমাদের মুক্তির পথ, আমাদের সম্মানের ছায়া, আমাদের দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের নিশ্চয়তা।

লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামি আইন বিভাগ, আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

One thought on “ইসলামী শরীয়াহ—আমাদের জীবনের পথপ্রদর্শক

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

ইসলামী শরীয়াহ—আমাদের জীবনের পথপ্রদর্শক

আপডেট সময় : ০৩:২০:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫

 

ইসলামী শরীয়াহ শুধু কিছু আইন-কানুনের নাম নয়, বরং এটি আল্লাহর হুকুম ও রাসূলুল্লাহ (স.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। শরীয়াহ ছাড়া মুসলিমের জীবন কল্পনাও করা যায় না।

ব্যক্তিগত জীবনে শরীয়াহ হালাল হারাম ও ন্যায়-অন্যায়ের স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে খাওয়া-দাওয়া, পোশাক-পরিচ্ছদ, লেনদেন ও বিবাহে শুদ্ধতা আনে। পারিবারিক জীবনে স্বামী-স্ত্রীর অধিকার, সন্তান প্রতিপালন ও উত্তরাধিকার নির্ধারণের মাধ্যমে শান্তি ও ভালোবাসা প্রতিষ্ঠা করে। সামাজিক জীবনে জুলুম, সুদ, ঘুষ ও হত্যাকে নিষিদ্ধ করে ন্যায়, নিরাপত্তা ও ভ্রাতৃত্ব গড়ে তোলে। অর্থনীতিতে সুদমুক্ত লেনদেন, যাকাত ও ইনসাফের নীতি বৈষম্য দূর করে। আর রাষ্ট্র ও বিচারব্যবস্থায় আইন, অপরাধের শাস্তি, যুদ্ধ-শান্তি ও নীতিনির্ধারণের পূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করে। সামগ্রিকভাবে শরীয়াহ দ্বীন, জীবন, বুদ্ধি, বংশধারা ও সম্পদ সুরক্ষার মাধ্যমে মানবকল্যাণ নিশ্চিত করে এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা করে।

কিন্তু আজকের দুঃখজনক বাস্তবতা হলো- মুসলিম বিশ্বে শরীয়াহর পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগ প্রায় বিলুপ্তপ্রায়। অনেকেই নির্লজ্জভাবে বলে বসে, “আমরা শরীয়াহ আইন মানি না।” অথচ এটি বলা মাত্রই একজন মানুষ ইসলামী আকীদার আলোকে মুরতাদ বিবেচিত হয়।

অথচ রাব্বুল আলামীন সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন:

“যে কেউ আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা অনুযায়ী বিচার করে না, তারাই কাফির।” (সূরা মায়েদা: ৪৪)

রাসূলুল্লাহ (স.) বারবার সতর্ক করেছেন যে শরীয়াহ ছাড়া ঈমান পূর্ণ হয় না। চার ইমামও একমত হয়েছেন যে –

শরীয়াহর সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো বিধান অস্বীকার করলে সে কাফের হবে। শরীয়াহকে স্বীকার করেও যদি কেউ আমল না করে, তবে সে বড় গুনাহগার, জালিম ও ফাসিক।

আর শরীয়াহকে অপ্রযোজ্য, পুরোনো বা বাতিল মনে করা সর্বসম্মতভাবে কুফর।

তাহলে স্পষ্ট হলো—শরীয়াহ মানা ছাড়া মুসলিম জীবনের কোনো মূল্য নেই। মুসলিম জাতির গৌরব, ঐতিহ্য ও মুক্তির পথ একমাত্র শরীয়াহর মধ্যেই নিহিত। অথচ আজ আরব বিশ্বের বড় অংশ ইয়াহুদী ও খ্রিস্টান শক্তির তোষামোদে মগ্ন, নিজেদের সম্মান ও ইতিহাস বিস্মৃত করছে।

আমাদের কর্তব্য হলো, সর্বদা শরীয়াহর নির্দেশ মেনে জীবন পরিচালনা করা, তার অস্বীকার তো চিন্তাতেও না আনা। বরং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত হৃদয়ে আকাঙ্ক্ষা রাখতে হবে, আল্লাহর জমিনে তাঁর শরীয়াহর শাসন প্রতিষ্ঠা করার।

শরীয়াহই আমাদের মুক্তির পথ, আমাদের সম্মানের ছায়া, আমাদের দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের নিশ্চয়তা।

লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামি আইন বিভাগ, আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়।