সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

নারী কেবল ঘরে নয়, পর্দার অন্তরাল থেকেও তিনি দীপ্তিময়

মুহাম্মদ আম্মার হোসাইন
  • আপডেট সময় : ০৯:৪১:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫ ৪৫৭ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

নারী মূলত ঘরের শোভা, অন্তরের প্রশান্তি, পরিবার ও সমাজের মর্যাদার আলোকধারা। পর্দার আবরণে থেকেও তারা দীপ্তিমান হতে পারে, জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত হতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়—যদি নারীর স্থান কেবল গৃহেই সীমাবদ্ধ হয়, তবে কেনই বা তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে আমন্ত্রণ জানানো হয়? কেনই বা তাদের হাতে অর্পিত হয় চিকিৎসার কলম, প্রকৌশলের সূক্ষ্ম যন্ত্র, সামরিক বাহিনীর দায়িত্ব কিংবা শিক্ষার সম্মানিত আসন?

ইতিহাস বলছে, উহুদের যুদ্ধ যখন রক্তে রঞ্জিত হলো, সাহাবীগণের পদক্ষেপ যখন কিছু সময়ের জন্য কেঁপে উঠল, তখনই দিগন্তে উদ্ভাসিত হলো এক মহিমান্বিত দৃশ্য। নুসাইবা বিনতে কা‘আব আল-আনসারিয়া (রাযি.) তরবারি হাতে ছুটে আসেন প্রিয় নবী (স.)এর সুরক্ষায়।

এক হাতে তিনি ধরেছিলেন ঢাল—যা হয়ে উঠেছিল রাসূলুল্লাহ (স.)এর জীবনরক্ষার প্রাচীর; অন্য হাতে ঝলসে উঠছিল তরবারি, যা প্রতিহত করছিল শত্রুর আক্রমণ অবিরাম। তাঁর মতোই উম্মে আম্মারা (রাযি.), উম্মে সালিম (রাযি.), উম্মে সুলাইত (রাযি.) এবং খাতিবাতুন নিসা আসমা বিনতে ইয়াজিদ (রাযি.) প্রমুখ নারী সাহাবীগণও অমর দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন সাহস, সেবা ও আত্মোৎসর্গের ক্ষেত্রে।

এমনকি জ্ঞানের ইতিহাসও নারীর অবদানে ভরপুর। ইমাম শাফেয়ী (রহ.) তাঁর প্রজ্ঞার বিপুল ভাণ্ডার পূর্ণ করেছিলেন অসংখ্য নারী আলিমা ও উস্তাজার কাছ থেকে। জ্ঞানের উচ্চাসনে বসে তাঁরাই হয়েছিলেন ইমামের শিক্ষক। যদি নারীর শিক্ষা ও শিক্ষাদান নিষিদ্ধ হতো, তবে কি এ ধারাবাহিকতা টিকে থাকত?

আজকের দুনিয়াতেও তার প্রমাণ স্পষ্ট। মিসরের আল-আযহার—ইসলামি জ্ঞানের মহতীর্থ—যেখানে বিশ্বজুড়ে থেকে শিক্ষার্থীরা সমবেত হয়, সেখানে বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রধান পদ অলংকৃত করছেন একজন নারী। শাইখুল আজহারের নিকটবর্তী অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও নারীর হাতে অর্পিত। যদি নারীর স্থান কেবল গৃহেই সীমাবদ্ধ থাকত, তবে কি এমন ঐতিহাসিক দৃশ্য দুনিয়া প্রত্যক্ষ করত?

অতএব, নারী কেবল ঘরে সুন্দর নয়; তিনি সুন্দর জ্ঞানচর্চায়, প্রজ্ঞার আলোয়, নেতৃত্বের গৌরবে এবং আগামী প্রজন্মকে আলোকিত করার মহৎ দায়িত্বে। পর্দার আড়াল থেকেও তিনি হতে পারেন দীপ্তিময় দিশারী, যাঁর হাত ধরে সমাজ, সংস্কৃতি ও সভ্যতা এগিয়ে যায় এক অনন্য উজ্জ্বল পথে।

লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামি আইন বিভাগ, আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

One thought on “নারী কেবল ঘরে নয়, পর্দার অন্তরাল থেকেও তিনি দীপ্তিময়

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

নারী কেবল ঘরে নয়, পর্দার অন্তরাল থেকেও তিনি দীপ্তিময়

আপডেট সময় : ০৯:৪১:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫

 

নারী মূলত ঘরের শোভা, অন্তরের প্রশান্তি, পরিবার ও সমাজের মর্যাদার আলোকধারা। পর্দার আবরণে থেকেও তারা দীপ্তিমান হতে পারে, জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত হতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যায়—যদি নারীর স্থান কেবল গৃহেই সীমাবদ্ধ হয়, তবে কেনই বা তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে আমন্ত্রণ জানানো হয়? কেনই বা তাদের হাতে অর্পিত হয় চিকিৎসার কলম, প্রকৌশলের সূক্ষ্ম যন্ত্র, সামরিক বাহিনীর দায়িত্ব কিংবা শিক্ষার সম্মানিত আসন?

ইতিহাস বলছে, উহুদের যুদ্ধ যখন রক্তে রঞ্জিত হলো, সাহাবীগণের পদক্ষেপ যখন কিছু সময়ের জন্য কেঁপে উঠল, তখনই দিগন্তে উদ্ভাসিত হলো এক মহিমান্বিত দৃশ্য। নুসাইবা বিনতে কা‘আব আল-আনসারিয়া (রাযি.) তরবারি হাতে ছুটে আসেন প্রিয় নবী (স.)এর সুরক্ষায়।

এক হাতে তিনি ধরেছিলেন ঢাল—যা হয়ে উঠেছিল রাসূলুল্লাহ (স.)এর জীবনরক্ষার প্রাচীর; অন্য হাতে ঝলসে উঠছিল তরবারি, যা প্রতিহত করছিল শত্রুর আক্রমণ অবিরাম। তাঁর মতোই উম্মে আম্মারা (রাযি.), উম্মে সালিম (রাযি.), উম্মে সুলাইত (রাযি.) এবং খাতিবাতুন নিসা আসমা বিনতে ইয়াজিদ (রাযি.) প্রমুখ নারী সাহাবীগণও অমর দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন সাহস, সেবা ও আত্মোৎসর্গের ক্ষেত্রে।

এমনকি জ্ঞানের ইতিহাসও নারীর অবদানে ভরপুর। ইমাম শাফেয়ী (রহ.) তাঁর প্রজ্ঞার বিপুল ভাণ্ডার পূর্ণ করেছিলেন অসংখ্য নারী আলিমা ও উস্তাজার কাছ থেকে। জ্ঞানের উচ্চাসনে বসে তাঁরাই হয়েছিলেন ইমামের শিক্ষক। যদি নারীর শিক্ষা ও শিক্ষাদান নিষিদ্ধ হতো, তবে কি এ ধারাবাহিকতা টিকে থাকত?

আজকের দুনিয়াতেও তার প্রমাণ স্পষ্ট। মিসরের আল-আযহার—ইসলামি জ্ঞানের মহতীর্থ—যেখানে বিশ্বজুড়ে থেকে শিক্ষার্থীরা সমবেত হয়, সেখানে বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রধান পদ অলংকৃত করছেন একজন নারী। শাইখুল আজহারের নিকটবর্তী অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও নারীর হাতে অর্পিত। যদি নারীর স্থান কেবল গৃহেই সীমাবদ্ধ থাকত, তবে কি এমন ঐতিহাসিক দৃশ্য দুনিয়া প্রত্যক্ষ করত?

অতএব, নারী কেবল ঘরে সুন্দর নয়; তিনি সুন্দর জ্ঞানচর্চায়, প্রজ্ঞার আলোয়, নেতৃত্বের গৌরবে এবং আগামী প্রজন্মকে আলোকিত করার মহৎ দায়িত্বে। পর্দার আড়াল থেকেও তিনি হতে পারেন দীপ্তিময় দিশারী, যাঁর হাত ধরে সমাজ, সংস্কৃতি ও সভ্যতা এগিয়ে যায় এক অনন্য উজ্জ্বল পথে।

লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামি আইন বিভাগ, আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়।