সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

কন্যাসন্তান পরকালীন সাফল্যের চাবিকাঠি

আইবি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:২৯:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫ ১৪০ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

কন্যাসন্তান আল্লাহর এক বিশেষ উপহার এবং সৌভাগ্যের প্রতীক। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে তাদের মর্যাদা ও গুরুত্বের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। জাহেলি যুগে অজ্ঞতা ও কুসংস্কারের কারণে কন্যাসন্তানকে অভিশাপ মনে করা হতো এবং লোকলজ্জার ভয়ে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো। ইসলাম এ বর্বর প্রথা নিষিদ্ধ করে কন্যাসন্তানের আগমনকে সুসংবাদ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেন, “যখন তাদের কাউকে কন্যাসন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখ কালো হয়ে যায়…” (সুরা নাহল: ৫৮)। এ আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তৎকালীন সমাজের ভ্রান্ত ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

তাফসিরে কুরতুবিতে সাহাবি ওয়াসিলা বিন আসকা (রা.) বলেন, কন্যাসন্তান মা-বাবার জন্য সৌভাগ্যের নিদর্শন। তিনি কোরআনের সেই আয়াত তুলে ধরেন, যেখানে আল্লাহ বলেন— “তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যাসন্তান দেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্রসন্তান দেন। অথবা যাকে ইচ্ছা পুত্র-কন্যা উভয়ই দেন এবং যাকে ইচ্ছা নিঃসন্তান রাখেন।” (সুরা শুরা: ৫০-৫১)।

হাদিসে কন্যাসন্তানকে পরকালীন মুক্তির উপায় হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। মহানবী (সা.) বলেন, “যাকে কন্যাসন্তান দেওয়া হয় এবং সে তাদের উত্তমভাবে লালন-পালন করে, তার জন্য তারা জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায় হবে।” (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)।

আরেকটি হাদিসে তিনি বলেন, “যার ঘরে কন্যাসন্তান জন্ম নেয়, এরপর সে তাকে কষ্ট দেয়নি, মেয়ে হওয়ার কারণে অসন্তোষ প্রকাশ করেনি এবং পুত্রসন্তানকে তার ওপর প্রাধান্য দেয়নি, আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।” (মুসনাদে আহমদ)।

ইসলাম কন্যাসন্তানের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছে এবং তাদের প্রতি ভালোবাসা ও যথাযথ প্রতিপালনকে পরকালীন সাফল্যের চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

কন্যাসন্তান পরকালীন সাফল্যের চাবিকাঠি

আপডেট সময় : ০৯:২৯:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫

 

কন্যাসন্তান আল্লাহর এক বিশেষ উপহার এবং সৌভাগ্যের প্রতীক। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে তাদের মর্যাদা ও গুরুত্বের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। জাহেলি যুগে অজ্ঞতা ও কুসংস্কারের কারণে কন্যাসন্তানকে অভিশাপ মনে করা হতো এবং লোকলজ্জার ভয়ে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো। ইসলাম এ বর্বর প্রথা নিষিদ্ধ করে কন্যাসন্তানের আগমনকে সুসংবাদ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেন, “যখন তাদের কাউকে কন্যাসন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখ কালো হয়ে যায়…” (সুরা নাহল: ৫৮)। এ আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তৎকালীন সমাজের ভ্রান্ত ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

তাফসিরে কুরতুবিতে সাহাবি ওয়াসিলা বিন আসকা (রা.) বলেন, কন্যাসন্তান মা-বাবার জন্য সৌভাগ্যের নিদর্শন। তিনি কোরআনের সেই আয়াত তুলে ধরেন, যেখানে আল্লাহ বলেন— “তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যাসন্তান দেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্রসন্তান দেন। অথবা যাকে ইচ্ছা পুত্র-কন্যা উভয়ই দেন এবং যাকে ইচ্ছা নিঃসন্তান রাখেন।” (সুরা শুরা: ৫০-৫১)।

হাদিসে কন্যাসন্তানকে পরকালীন মুক্তির উপায় হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। মহানবী (সা.) বলেন, “যাকে কন্যাসন্তান দেওয়া হয় এবং সে তাদের উত্তমভাবে লালন-পালন করে, তার জন্য তারা জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায় হবে।” (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)।

আরেকটি হাদিসে তিনি বলেন, “যার ঘরে কন্যাসন্তান জন্ম নেয়, এরপর সে তাকে কষ্ট দেয়নি, মেয়ে হওয়ার কারণে অসন্তোষ প্রকাশ করেনি এবং পুত্রসন্তানকে তার ওপর প্রাধান্য দেয়নি, আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।” (মুসনাদে আহমদ)।

ইসলাম কন্যাসন্তানের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছে এবং তাদের প্রতি ভালোবাসা ও যথাযথ প্রতিপালনকে পরকালীন সাফল্যের চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেছে।