নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনে অনন্য ছিলেন নবীজি (সা.)
যে নারীর জন্য নিজের চাদর বিছিয়ে দিয়েছিলেন রাসুল (সা.)
- আপডেট সময় : ০৬:৩৩:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫ ১২৯ বার পড়া হয়েছে

নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন বিশ্বে এক অনন্য উদাহরণ। যখন আরব সমাজে কন্যাশিশুকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো, নারীদেরকে ভোগ্যপণ্য হিসেবে গণ্য করা হতো—তখন তিনি নারী জাতিকে সমাজে পুনরায় মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেন।
নারীর সম্মান রক্ষায় তিনি শুধু আদর্শিক বয়ানই দেননি, নিজের জীবনে বাস্তবভাবে তা প্রয়োগও করেছেন। স্ত্রীর স্মৃতিতে আবেগপ্রবণ হওয়া, বান্ধবীকে সম্মান দেওয়া কিংবা দুধমাতার পায়ের কাছে চাদর বিছিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাগুলো ইতিহাসে আজও অনুকরণীয়।
হজরত খাদিজা (রা.) ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রথম স্ত্রী। তাঁর ইন্তেকালের পর নবীজি দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে গভীরভাবে স্মরণ করেছেন। একবার খাদিজা (রা.)-এর বোন হালা বিনতে খুয়াইলিদ নবীজির কাছে এলে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, “আমি কখনো নবীজিকে এত আবেগপ্রবণ হতে দেখিনি, যতটা তিনি খাদিজার স্মরণে হতেন।” (সহিহ বুখারি: ৩৮১৮; সহিহ মুসলিম: ২৪৩৫)
একবার খাদিজা (রা.)-এর ঘনিষ্ঠ এক বান্ধবী নবীজির দরবারে উপস্থিত হলে রাসুল (সা.) নিজ চাদর বিছিয়ে তাকে বসার সম্মান দেন। ঘটনাটি নিছক সৌজন্য নয়, বরং নারী জাতির প্রতি সম্মান ও অতীত সম্পর্কের প্রতি কৃতজ্ঞতার অনন্য নিদর্শন। (আদাবুল মুফরাদ: ৩৩৬)
দুধমাতা হালিমা সাদিয়া (রা.) নবীজির জীবনে ছিলেন বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ একজন নারী। আবুত তুফায়ল (রা.) বলেন, “আমি জিরানাহ্ এলাকায় নবী (সা.)-কে মাংস বিতরণ করতে দেখেছি। এমন সময় এক নারী এসে তাঁর কাছে পৌঁছালে তিনি নিজ চাদর বিছিয়ে তাকে বসতে দেন। পরে জানতে পারি, তিনি ছিলেন নবীজির দুধমাতা।” (সুনান আবু দাউদ: ৪৯৩৭)
আধুনিক সময়ে নারী নিগ্রহ, অবমাননা ও অবহেলার চিত্র যখন নিত্যদিনের বাস্তবতা, তখন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনচর্যা আমাদের জন্য পথনির্দেশ। তিনি শিখিয়ে গেছেন—নারীর প্রতি সম্মান কেবল নৈতিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি ঈমান ও সুন্নাহর দাবিও বটে।
ব্যক্তিজীবন থেকে সমাজজীবন—সব ক্ষেত্রে নারীকে যথাযথ মর্যাদা, সম্মান ও সহমর্মিতা দেওয়ার মধ্যেই রয়েছে জান্নাতের পথে এক সুগন্ধিময় আহ্বান।










