সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট

মুহাম্মদ আরশাদ
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৩:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬ ১৪৮ বার পড়া হয়েছে

যেসব কারণে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা ইসলামে নিষিদ্ধ

অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঈদ মুসলমানদের জন্য একটি মহিমান্বিত দিন, যা শান-শওকত, ঐক্য-সংহতি এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রতি আনুগত্য ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অন্যতম উপলক্ষ। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, অনেক মুসলমান এই দিনটিকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে জানে না। বরং তারা অনৈসলামিক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়ে যায়, যা সম্পূর্ণরূপে বর্জনীয়। এর মধ্যে অন্যতম মারাত্মক গুনাহ হলো বেগানা নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা।

ইসলামী শরীয়তে নারীদের জন্য খোলামেলা ও অশালীন পোশাকে রাস্তায় বের হওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা কুরআনে বলেন— وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى

“আর তোমরা নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করো এবং প্রাচীন মূর্খতার যুগের মতো নিজেদের প্রদর্শন করে বেড়াবে না।” (সূরা আহযাব: ৩৩)

এই আয়াতে নারীদের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে তারা নিজেদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করতে পারে এবং অশ্লীলতা ও ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকে।

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নারীদের পর্দার বিষয়ে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন— إِنَّ الْمَرْأَةَ عَوْرَةٌ، فَإِذَا خَرَجَتْ إِسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُ

“নারী হচ্ছে গোপন বস্তু। যখন সে বাড়ি থেকে বের হয়, তখন শয়তান তাকে ফিতনার দিকে প্ররোচিত করে।” (মিশকাত, হাদিস: ৩১০৯)

অত্র হাদিসে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) পর্দাহীন নারীদের ফিতনার উৎস বলে সতর্ক করেছেন।

অশালীন পোশাক ও জান্নাত থেকে বঞ্চিত হওয়ার হুমকি

রাসুলুল্লাহ (ﷺ) আরও ইরশাদ করেছেন— صِنْفَانِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ لَمْ أَرَهُمَا… وَنِسَاءٌ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ مُمِيلاَتٌ مَائِلاَتٌ… لَا يَدْخُلْنَ الْجَنَّةَ وَلَا يَجِدْنَ رِيحَهَا

“দুই শ্রেণির মানুষ জাহান্নামী, আমি তাদের এখনো দেখিনি… (এর মধ্যে এক শ্রেণি হলো) সেই নারীরা, যারা পোশাক পরিধান করেও উলঙ্গ, যারা পরপুরুষকে আকৃষ্ট করে ও নিজেরাও আকৃষ্ট হয়। তাদের মাথা হবে উঁচু উটের কুঁজের মতো। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং জান্নাতের সুগন্ধও পাবে না, যদিও জান্নাতের সুগন্ধ বহু দূর থেকে পাওয়া যায়।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২১২৮)

এই হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, যারা শরীয়তের পর্দার বিধান লঙ্ঘন করে, তারা জান্নাত থেকে বঞ্চিত হবে।

নারীদের নিকট যাওয়ার বিষয়ে সতর্কতা

রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন— إِيَّاكُمْ وَالدُّخُولَ عَلَى النِّسَاءِ

“তোমরা নারীদের নিকট যাওয়া থেকে সাবধান থাক।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫২৩২)

অত্র হাদিসে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বিশেষভাবে নারীদের নিকট যাওয়ার বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন, বিশেষ করে স্বামীর নিকটাত্মীয়দের থেকে।

আজকের সমাজে দেখা যায়, ঈদের দিনে অনেকে পর্দার সীমা লঙ্ঘন করে। বিশেষত, এমন নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করে যাদের সাথে দেখা করা শরীয়তসম্মত নয়। এটি একটি মারাত্মক গুনাহ, যার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে আমরা পূর্বেই হাদিসের আলোকে জেনেছি।

আমাদের উচিত ঈদসহ প্রতিটি দিন কুরআন ও সুন্নাহর বিধান মেনে পালন করা এবং সকল প্রকার অনৈতিক কাজ থেকে বেঁচে থাকা। মহান আল্লাহ আমাদের এই ফিতনা থেকে হেফাজত করুন এবং কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন। আমীন।

● মুহাম্মদ আরশাদ: দাওরায়ে হাদিস ও উচ্চতর ইসলামী আইন গবেষণা, ফাতাওয়া বিভাগ, জামিয়া মাদানিয়া শুলকবহর, চট্টগ্রাম।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট

আপডেট সময় : ০৮:৫৩:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

ঈদ মুসলমানদের জন্য একটি মহিমান্বিত দিন, যা শান-শওকত, ঐক্য-সংহতি এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রতি আনুগত্য ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অন্যতম উপলক্ষ। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, অনেক মুসলমান এই দিনটিকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে জানে না। বরং তারা অনৈসলামিক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়ে যায়, যা সম্পূর্ণরূপে বর্জনীয়। এর মধ্যে অন্যতম মারাত্মক গুনাহ হলো বেগানা নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা।

ইসলামী শরীয়তে নারীদের জন্য খোলামেলা ও অশালীন পোশাকে রাস্তায় বের হওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা কুরআনে বলেন— وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى

“আর তোমরা নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করো এবং প্রাচীন মূর্খতার যুগের মতো নিজেদের প্রদর্শন করে বেড়াবে না।” (সূরা আহযাব: ৩৩)

এই আয়াতে নারীদের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে তারা নিজেদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করতে পারে এবং অশ্লীলতা ও ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকে।

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নারীদের পর্দার বিষয়ে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন— إِنَّ الْمَرْأَةَ عَوْرَةٌ، فَإِذَا خَرَجَتْ إِسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُ

“নারী হচ্ছে গোপন বস্তু। যখন সে বাড়ি থেকে বের হয়, তখন শয়তান তাকে ফিতনার দিকে প্ররোচিত করে।” (মিশকাত, হাদিস: ৩১০৯)

অত্র হাদিসে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) পর্দাহীন নারীদের ফিতনার উৎস বলে সতর্ক করেছেন।

অশালীন পোশাক ও জান্নাত থেকে বঞ্চিত হওয়ার হুমকি

রাসুলুল্লাহ (ﷺ) আরও ইরশাদ করেছেন— صِنْفَانِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ لَمْ أَرَهُمَا… وَنِسَاءٌ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ مُمِيلاَتٌ مَائِلاَتٌ… لَا يَدْخُلْنَ الْجَنَّةَ وَلَا يَجِدْنَ رِيحَهَا

“দুই শ্রেণির মানুষ জাহান্নামী, আমি তাদের এখনো দেখিনি… (এর মধ্যে এক শ্রেণি হলো) সেই নারীরা, যারা পোশাক পরিধান করেও উলঙ্গ, যারা পরপুরুষকে আকৃষ্ট করে ও নিজেরাও আকৃষ্ট হয়। তাদের মাথা হবে উঁচু উটের কুঁজের মতো। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং জান্নাতের সুগন্ধও পাবে না, যদিও জান্নাতের সুগন্ধ বহু দূর থেকে পাওয়া যায়।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২১২৮)

এই হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, যারা শরীয়তের পর্দার বিধান লঙ্ঘন করে, তারা জান্নাত থেকে বঞ্চিত হবে।

নারীদের নিকট যাওয়ার বিষয়ে সতর্কতা

রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন— إِيَّاكُمْ وَالدُّخُولَ عَلَى النِّسَاءِ

“তোমরা নারীদের নিকট যাওয়া থেকে সাবধান থাক।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫২৩২)

অত্র হাদিসে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বিশেষভাবে নারীদের নিকট যাওয়ার বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন, বিশেষ করে স্বামীর নিকটাত্মীয়দের থেকে।

আজকের সমাজে দেখা যায়, ঈদের দিনে অনেকে পর্দার সীমা লঙ্ঘন করে। বিশেষত, এমন নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করে যাদের সাথে দেখা করা শরীয়তসম্মত নয়। এটি একটি মারাত্মক গুনাহ, যার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে আমরা পূর্বেই হাদিসের আলোকে জেনেছি।

আমাদের উচিত ঈদসহ প্রতিটি দিন কুরআন ও সুন্নাহর বিধান মেনে পালন করা এবং সকল প্রকার অনৈতিক কাজ থেকে বেঁচে থাকা। মহান আল্লাহ আমাদের এই ফিতনা থেকে হেফাজত করুন এবং কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন। আমীন।

● মুহাম্মদ আরশাদ: দাওরায়ে হাদিস ও উচ্চতর ইসলামী আইন গবেষণা, ফাতাওয়া বিভাগ, জামিয়া মাদানিয়া শুলকবহর, চট্টগ্রাম।