সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

সুন্নি পরিচয়ের সংকট: আত্মসমালোচনার এক প্রয়াস

মুহাম্মদ আম্মার হোসাইন
  • আপডেট সময় : ০২:২৪:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৬২৯ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

বাংলাদেশে সুন্নি পরিচয় আজ নানা সংকটের মুখোমুখি। দরবারকেন্দ্রিক কার্যক্রম আর জুলুস-মিছিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে এই পরিচয়কে শক্তিশালী ভাবা আসলে আত্মপ্রবঞ্চনা ছাড়া আর কিছু নয়। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রেম কি কেবল র‍্যালি-মিছিলেই সীমাবদ্ধ? শরীয়তে জুলুস কোনো ইবাদত নয়, তবু এ নিয়েই যে উগ্রতা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা সুন্নিয়তের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

আজকের বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, জশনে জুলুসের নামে ঢোল, তবলা, হারমোনিয়ামসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজানো হয়। অথচ ইসলামের ইতিহাসে এমন কোনো দৃষ্টান্ত নেই। ধর্মীয় আবেগকে আড়াল করে এগুলো নিছক ভণ্ডামি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষ বরং বিভ্রান্ত হচ্ছে এবং শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের চোখে সুন্নিয়ত হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছে।

সত্য অস্বীকার করা যাবে না—রাজনৈতিক দালালি কমবেশি সব দলই করেছে, তবে অধিকাংশ সুন্নি আলেমের এই প্রবণতা ছিল বেশি। ফলে “সুন্নি লীগ” জাতীয় বিভ্রান্তিকর ব্যানারে সুন্নিয়তের আসল রূপ ঢাকা পড়ে গেছে। অথচ উম্মাহর প্রকৃত দায়িত্ব ছিল ভণ্ডামি প্রতিহত করা, সামাজিক অন্যায় ও শরীয়তবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া।

আরও পড়ুন: সীরাতুন্নবী ও মিলাদুন্নবী— বাকবিতণ্ডা কেন?

ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের নামে মুনকারাতের ছড়াছড়ি থাকলেও প্রকৃত অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রায় অনুপস্থিত। শাহবাগী নাস্তিকদের বিরুদ্ধে, শরীয়তবিরোধী আইন প্রণয়নের বিরুদ্ধে কিংবা ট্রান্সজেন্ডার-এলজিবিটি সংস্কৃতির প্রসারের বিরুদ্ধে তো কোনো গণজমায়েত দেখা যায় না। মাজারে শিরক-ভিত্তিক পূজা, মিউজিকের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহর শানে অবমাননা, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা—এসব নিয়ে সুন্নি আলেমদের অবস্থান বরং দুর্বল ও নীরব।

আজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গেলে তরুণদের মুখে শোনা যায়—“মাজারপূজারী ভণ্ড”। কেন এই দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হলো? কারণ আপনারা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। ইখলাস, ইলম ও দাওয়াতের পরিবর্তে তারা দেখছে অহংকার, অন্যকে গালি দেওয়ার প্রবণতা, এবং নাচ-গানের জিকির। বক্তাদের চাকচিক্যময় লাল জুব্বা ও সোনালি পাগড়ি সমাজের উচ্চপর্যায়ের মানুষকে আকর্ষণ করছে না—বরং দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।

আজকের প্রশ্ন, আপনাদের কী হওয়া উচিত ছিল আর কী হয়ে যাচ্ছেন? আশেকে রাসূল হওয়া মানে কেবল মিছিল নয়; বরং সত্যকে তুলে ধরা, ভণ্ডামি প্রতিহত করা এবং উম্মাহর স্বার্থে সাহসী অবস্থান গ্রহণ করা। সুশীলতার মুখোশ দিয়ে সত্য আড়াল করার দিন শেষ। আত্মসমালোচনার সময় এখনই।

আমি অবশ্যই সব সুন্নিদের উদ্দেশে বলছি না—বরং অধিকাংশের বাস্তব চিত্র নিয়েই এই সমালোচনা। যদি এ কথায় কারও অন্তরে জ্বালা ধরে, তবে বুঝতে হবে এই উগ্রতা ভণ্ডামি থেকেই জন্ম নিচ্ছে।

লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামি আইন বিভাগ, আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়।

এসইউটি/

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

সুন্নি পরিচয়ের সংকট: আত্মসমালোচনার এক প্রয়াস

আপডেট সময় : ০২:২৪:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

বাংলাদেশে সুন্নি পরিচয় আজ নানা সংকটের মুখোমুখি। দরবারকেন্দ্রিক কার্যক্রম আর জুলুস-মিছিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে এই পরিচয়কে শক্তিশালী ভাবা আসলে আত্মপ্রবঞ্চনা ছাড়া আর কিছু নয়। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রেম কি কেবল র‍্যালি-মিছিলেই সীমাবদ্ধ? শরীয়তে জুলুস কোনো ইবাদত নয়, তবু এ নিয়েই যে উগ্রতা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা সুন্নিয়তের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

আজকের বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, জশনে জুলুসের নামে ঢোল, তবলা, হারমোনিয়ামসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজানো হয়। অথচ ইসলামের ইতিহাসে এমন কোনো দৃষ্টান্ত নেই। ধর্মীয় আবেগকে আড়াল করে এগুলো নিছক ভণ্ডামি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষ বরং বিভ্রান্ত হচ্ছে এবং শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের চোখে সুন্নিয়ত হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছে।

সত্য অস্বীকার করা যাবে না—রাজনৈতিক দালালি কমবেশি সব দলই করেছে, তবে অধিকাংশ সুন্নি আলেমের এই প্রবণতা ছিল বেশি। ফলে “সুন্নি লীগ” জাতীয় বিভ্রান্তিকর ব্যানারে সুন্নিয়তের আসল রূপ ঢাকা পড়ে গেছে। অথচ উম্মাহর প্রকৃত দায়িত্ব ছিল ভণ্ডামি প্রতিহত করা, সামাজিক অন্যায় ও শরীয়তবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া।

আরও পড়ুন: সীরাতুন্নবী ও মিলাদুন্নবী— বাকবিতণ্ডা কেন?

ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের নামে মুনকারাতের ছড়াছড়ি থাকলেও প্রকৃত অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রায় অনুপস্থিত। শাহবাগী নাস্তিকদের বিরুদ্ধে, শরীয়তবিরোধী আইন প্রণয়নের বিরুদ্ধে কিংবা ট্রান্সজেন্ডার-এলজিবিটি সংস্কৃতির প্রসারের বিরুদ্ধে তো কোনো গণজমায়েত দেখা যায় না। মাজারে শিরক-ভিত্তিক পূজা, মিউজিকের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহর শানে অবমাননা, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা—এসব নিয়ে সুন্নি আলেমদের অবস্থান বরং দুর্বল ও নীরব।

আজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গেলে তরুণদের মুখে শোনা যায়—“মাজারপূজারী ভণ্ড”। কেন এই দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হলো? কারণ আপনারা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। ইখলাস, ইলম ও দাওয়াতের পরিবর্তে তারা দেখছে অহংকার, অন্যকে গালি দেওয়ার প্রবণতা, এবং নাচ-গানের জিকির। বক্তাদের চাকচিক্যময় লাল জুব্বা ও সোনালি পাগড়ি সমাজের উচ্চপর্যায়ের মানুষকে আকর্ষণ করছে না—বরং দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।

আজকের প্রশ্ন, আপনাদের কী হওয়া উচিত ছিল আর কী হয়ে যাচ্ছেন? আশেকে রাসূল হওয়া মানে কেবল মিছিল নয়; বরং সত্যকে তুলে ধরা, ভণ্ডামি প্রতিহত করা এবং উম্মাহর স্বার্থে সাহসী অবস্থান গ্রহণ করা। সুশীলতার মুখোশ দিয়ে সত্য আড়াল করার দিন শেষ। আত্মসমালোচনার সময় এখনই।

আমি অবশ্যই সব সুন্নিদের উদ্দেশে বলছি না—বরং অধিকাংশের বাস্তব চিত্র নিয়েই এই সমালোচনা। যদি এ কথায় কারও অন্তরে জ্বালা ধরে, তবে বুঝতে হবে এই উগ্রতা ভণ্ডামি থেকেই জন্ম নিচ্ছে।

লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামি আইন বিভাগ, আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়।

এসইউটি/