সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

মিলাদ ও সীরাতের গুরুত্ব এবং নবীজী (সা.) এর শিক্ষায় উম্মাহর প্রত্যাবর্তন

মোঃ তামজিদুল মুস্তাফা মিশকাত
  • আপডেট সময় : ০৯:০২:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৫২ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

মিলাদুন্নবী (সা.) অর্থ আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)–এর পবিত্র জন্মদিন এবং সীরাতুন্নবী (সা.) অর্থ তাঁর পূর্ণ জীবনকাহিনী—শৈশব, নবুয়ত লাভ, দাওয়াত, সংগ্রাম, হিজরত, মদিনায় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা থেকে বিদায় হজ্জ পর্যন্ত সমগ্র ৬৩ বছরের ইতিহাস। দুটি বিষয়ই মুসলিম উম্মাহর জন্য অপরিসীম গুরুত্ববহ, কারণ রাসূল (সা.)–কে আল্লাহ তাআলা সমগ্র জাতির জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন।

 

জন্মদিন উদযাপন প্রসঙ্গ

রাসূল (সা.) নিজে কখনো জন্মদিন পালন করেননি; বরং তিনি সোমবারে জন্ম ও ওহীর স্মরণে রোজা রাখতেন। সাহাবায়ে কেরামগণ কোনো মিছিল, জুলুশ বা উৎসবের মাধ্যমে তাঁর জন্মদিন উদযাপন করেননি। অতএব কোন নির্দিষ্ট দিনে শোভাযাত্রা বা আলোকসজ্জা করার মাধ্যমে “আশেকে রাসূল” হওয়ার দাবি কোরআন–হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়। তাই এটা সম্পূর্ণ বিদআত। প্রকৃত ভালোবাসা হলো তাঁর নির্দেশ মেনে চলা, তাঁর আদর্শ আঁকড়ে ধরা।

 

প্রকৃত আশেকে রাসূল (সা.) এর করণীয়

১. সম্ভব হলে এই দিনে (বিশেষত সোমবার) রোজা রাখা।

২. নামাজ, দরূদ, ইস্তেগফার ও ইবাদতে বেশি সময় দেওয়া।

৩. নিজের চরিত্র, আখলাক, পোশাক-আশাক ও আচার-ব্যবহারে রাসূল (সা.)–এর সুন্নাহকে ধারণ করা।

 

সুন্নাহ আঁকড়ে ধরার গুরুত্ব

আল্লাহ বলেন: “যারা আল্লাহর রসূলকে প্রত্যাখ্যান করে ও তাঁর নির্দেশ মানে না, তারা প্রকৃতপক্ষে বিপথগামী।” (সূরা নূর ২৪:৫১)

রাসূল (সা.) সতর্ক করেছেন: “যে আমার সুন্নাহকে অস্বীকার করে, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।” (সহীহ বুখারি, সহীহ মুসলিম)

সুন্নাহ মানার অর্থ কেবল ইবাদতকে সঠিকভাবে আদায় করা নয়; পাশাপাশি সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, দয়া-দাক্ষিণ্য, প্রতিবেশীর হক আদায়, ব্যবসায় সততা—এসব ক্ষেত্রেও নবীর আদর্শ ধারণ করা।

 

ভালোবাসার প্রকৃত রূপ

নবী (সা.)–এর প্রতি ভালোবাসা মানে কেবল একটি দিনে মিছিল নয়; বরং সারাবছর তাঁর শিক্ষায় জীবন সাজানো, তাঁর সুন্নাহকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা করা। নামাজে খুশু, লেনদেনে ন্যায়পরায়ণতা, পরিবারে দয়া, সমাজে সত্যবাদিতা—এসবই নবীর ভালোবাসার প্রকৃত পরিচয়।

এভাবেই আমরা যদি নবীজী (সা.)–এর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরি এবং জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে তাঁর শিক্ষাকে ধারণ করি, তবেই আমরা প্রকৃত আশেকে রাসূল (সা.) বলে পরিচিত হতে পারব এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে পারব।

লেখক: দাওরায়ে হাদীসের শিক্ষার্থী, আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম (হাটহাজারী মাদ্রাসা)

এসইউটি/

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

মিলাদ ও সীরাতের গুরুত্ব এবং নবীজী (সা.) এর শিক্ষায় উম্মাহর প্রত্যাবর্তন

আপডেট সময় : ০৯:০২:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

মিলাদুন্নবী (সা.) অর্থ আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)–এর পবিত্র জন্মদিন এবং সীরাতুন্নবী (সা.) অর্থ তাঁর পূর্ণ জীবনকাহিনী—শৈশব, নবুয়ত লাভ, দাওয়াত, সংগ্রাম, হিজরত, মদিনায় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা থেকে বিদায় হজ্জ পর্যন্ত সমগ্র ৬৩ বছরের ইতিহাস। দুটি বিষয়ই মুসলিম উম্মাহর জন্য অপরিসীম গুরুত্ববহ, কারণ রাসূল (সা.)–কে আল্লাহ তাআলা সমগ্র জাতির জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন।

 

জন্মদিন উদযাপন প্রসঙ্গ

রাসূল (সা.) নিজে কখনো জন্মদিন পালন করেননি; বরং তিনি সোমবারে জন্ম ও ওহীর স্মরণে রোজা রাখতেন। সাহাবায়ে কেরামগণ কোনো মিছিল, জুলুশ বা উৎসবের মাধ্যমে তাঁর জন্মদিন উদযাপন করেননি। অতএব কোন নির্দিষ্ট দিনে শোভাযাত্রা বা আলোকসজ্জা করার মাধ্যমে “আশেকে রাসূল” হওয়ার দাবি কোরআন–হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়। তাই এটা সম্পূর্ণ বিদআত। প্রকৃত ভালোবাসা হলো তাঁর নির্দেশ মেনে চলা, তাঁর আদর্শ আঁকড়ে ধরা।

 

প্রকৃত আশেকে রাসূল (সা.) এর করণীয়

১. সম্ভব হলে এই দিনে (বিশেষত সোমবার) রোজা রাখা।

২. নামাজ, দরূদ, ইস্তেগফার ও ইবাদতে বেশি সময় দেওয়া।

৩. নিজের চরিত্র, আখলাক, পোশাক-আশাক ও আচার-ব্যবহারে রাসূল (সা.)–এর সুন্নাহকে ধারণ করা।

 

সুন্নাহ আঁকড়ে ধরার গুরুত্ব

আল্লাহ বলেন: “যারা আল্লাহর রসূলকে প্রত্যাখ্যান করে ও তাঁর নির্দেশ মানে না, তারা প্রকৃতপক্ষে বিপথগামী।” (সূরা নূর ২৪:৫১)

রাসূল (সা.) সতর্ক করেছেন: “যে আমার সুন্নাহকে অস্বীকার করে, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।” (সহীহ বুখারি, সহীহ মুসলিম)

সুন্নাহ মানার অর্থ কেবল ইবাদতকে সঠিকভাবে আদায় করা নয়; পাশাপাশি সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, দয়া-দাক্ষিণ্য, প্রতিবেশীর হক আদায়, ব্যবসায় সততা—এসব ক্ষেত্রেও নবীর আদর্শ ধারণ করা।

 

ভালোবাসার প্রকৃত রূপ

নবী (সা.)–এর প্রতি ভালোবাসা মানে কেবল একটি দিনে মিছিল নয়; বরং সারাবছর তাঁর শিক্ষায় জীবন সাজানো, তাঁর সুন্নাহকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা করা। নামাজে খুশু, লেনদেনে ন্যায়পরায়ণতা, পরিবারে দয়া, সমাজে সত্যবাদিতা—এসবই নবীর ভালোবাসার প্রকৃত পরিচয়।

এভাবেই আমরা যদি নবীজী (সা.)–এর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরি এবং জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে তাঁর শিক্ষাকে ধারণ করি, তবেই আমরা প্রকৃত আশেকে রাসূল (সা.) বলে পরিচিত হতে পারব এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে পারব।

লেখক: দাওরায়ে হাদীসের শিক্ষার্থী, আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম (হাটহাজারী মাদ্রাসা)

এসইউটি/