সংবাদ শিরোনাম ::
শাওয়াল মাসের ছয় রোযার গুরুত্ব ও ফজিলত পবিত্র ঈদে অবাধ মেলামেশা: এক ভয়াবহ সামাজিক সংকট থার্টি ফার্স্ট নাইট : আত্মসমালোচনার বদলে আত্মবিস্মৃতি জুড়ী উপজেলা শাখায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নতুন কমিটি গঠিত ফ্যাশন-বিকৃতি, লিঙ্গ-পরিচয় ও মানসিক বিপর্যয় ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবু বকর (রা): একটি নির্মোহ মূল্যায়ন ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৩ ধাপ এগোলো বাংলাদেশ মাদ্রাসায় নারী শিক্ষা বিস্তারের আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার দাওয়াতি কাজে মনোযোগ দিতে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আজহারীর ময়লার ভাগাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে সাদ্দামের সাক্ষাৎকার, যোগ্য ব্যক্তি যোগ্য জায়গায়

জুলাই সনদের খসরার প্রতিবাদে শাহবাগ অবরোধ, অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব নিয়ে বিভাজন গভীর হচ্ছে

মোঃ রাকিব হোসেন, ঢাকা জেলা প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৩:১০:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫ ১৩৮ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

জুলাই সনদের খসরায় ছাত্র আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থনে সরাসরি অংশগ্রহণকারীদের স্বীকৃতি না থাকায় তা প্রত্যাখ্যান করেছেন ‘জুলাই যোদ্ধারা’। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সকাল থেকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রেখেছেন আন্দোলনে আহত ও সরাসরি অংশগ্রহণকারী বেশ কিছু মানুষ। তারা বলেন, এই খসরায় শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, অথচ মাঠে জীবন বাজি রেখে লড়াই করা মানুষদের উপেক্ষা করা হয়েছে। এতে ক্ষোভ জানিয়ে তারা দাবি করেন, অবিলম্বে খসরা সংশোধন করে সকল পক্ষকে স্বীকৃতি দিতে হবে।

অন্যদিকে, জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজনও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এক ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি বলেছেন, জাতীয় সরকারের কোনো প্রস্তাবনা ছাত্রদের পক্ষ থেকে তাদের দেওয়া হয়নি। কিন্তু নাহিদ দাবি করেন, ৫ আগস্ট রাতেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে জাতীয় সরকার ও নতুন সংবিধানের প্রস্তাবনা বিএনপিকে দেওয়া হয়। এমনকি পরবর্তীতে ভার্চুয়াল বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গেও এই বিষয়ে আলোচনা হয়। তারেক রহমান সে প্রস্তাবে সম্মত হননি এবং নাগরিক সমাজের সদস্যদের দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পরামর্শ দেন।

নাহিদ ইসলাম আরও দাবি করেন, উপদেষ্টা পরিষদের নাম চূড়ান্ত করার আগে একাধিকবার বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তাদের আলোচনা হয়েছে এবং তাদের সম্মতি নিয়েই উপদেষ্টারা শপথ নিয়েছেন। কিন্তু এখন বিএনপি সেই ভূমিকা অস্বীকার করছে, যা তিনি ‘রাজনৈতিক সুবিধাবাদের’ অংশ বলে উল্লেখ করেন।

অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময় নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, কিছু চক্র অভ্যুত্থানকে দলীয় করণের চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা সাদিক কায়েম সম্প্রতি দাবি করেছেন, ‘ছাত্রশক্তি’ গঠনে শিবিরের ভূমিকা ছিল এবং আন্দোলন শিবিরের দিকনির্দেশনায় পরিচালিত হয়েছে। এই বক্তব্যকে ‘মিথ্যাচার’ আখ্যা দিয়ে নাহিদ বলেন, ‘গুরুবার আড্ডা’ পাঠচক্র, ঢাবি ছাত্র অধিকার আন্দোলনের কিছু পদত্যাগী অংশ এবং জাবির একটি স্টাডি সার্কেল মিলে ছাত্রশক্তির ভিত্তি গড়ে তোলে। শিবিরের সাথে যোগাযোগ থাকলেও তা রাজনৈতিকভাবে যুক্ত থাকার প্রমাণ নয় বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে আরও বড় অভিযোগ এসেছে ২ আগস্ট রাতে জুলকারনাইন সায়ের গংয়ের বিরুদ্ধে। নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, ওই রাতে একদল ব্যক্তি সামরিক ক্যু করার উদ্দেশ্যে কথিত সেইফ হাউসে অবস্থানকারী ছাত্র নেতাদের উপর চাপ সৃষ্টি করে যেন তারা ফেসবুকে একদফা ঘোষণা দিয়ে সকল রাজনৈতিক যোগাযোগ ছিন্ন করে। কিন্তু আন্দোলনকারীরা এই চাপ প্রত্যাখ্যান করে মাঠ থেকেই ঘোষণা দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেয়। নাহিদ বলেন, সেনাবাহিনীকে ক্ষমতায় বসানোর এই অপচেষ্টা সফল হলে আরেকটি ‘এক-এগারো’ ফিরে আসত।

তিনি দাবি করেন, এখনো সায়ের গংরা বিভাজনের রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন আন্দোলনকারী নেতার বিরুদ্ধে চরিত্র হনন, কল রেকর্ড ফাঁস ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

এ অবস্থায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদী ঘোষণা দিয়েছেন, ৩ আগস্টের মধ্যে জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্রের সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং পরিষ্কার রূপরেখা না দেওয়া হলে কফিন মিছিলের কর্মসূচি পালন করা হবে। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “সকল উপদেষ্টার জন্য কফিনের ব্যবস্থা আমরা করবো। মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধে বৃষ্টিতেও আমরা রাজপথে নামবো।”

শাহবাগের অবরোধ ও নেতাদের একের পর এক বক্তব্যে স্পষ্ট, অভ্যুত্থান-পরবর্তী নেতৃত্ব, স্বীকৃতি এবং সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে মাঠের আন্দোলনকারীদের মধ্যে গভীর অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। আন্দোলনকারীরা বলছেন, এই অভ্যুত্থান কোনো গোষ্ঠীর ছিল না, ছিল জনগণের; আর জনগণের রক্তে লেখা ইতিহাস কাউকে মুছে ফেলতে দেওয়া হবে না।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Categories

জুলাই সনদের খসরার প্রতিবাদে শাহবাগ অবরোধ, অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব নিয়ে বিভাজন গভীর হচ্ছে

আপডেট সময় : ০৩:১০:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫

 

জুলাই সনদের খসরায় ছাত্র আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থনে সরাসরি অংশগ্রহণকারীদের স্বীকৃতি না থাকায় তা প্রত্যাখ্যান করেছেন ‘জুলাই যোদ্ধারা’। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সকাল থেকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রেখেছেন আন্দোলনে আহত ও সরাসরি অংশগ্রহণকারী বেশ কিছু মানুষ। তারা বলেন, এই খসরায় শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, অথচ মাঠে জীবন বাজি রেখে লড়াই করা মানুষদের উপেক্ষা করা হয়েছে। এতে ক্ষোভ জানিয়ে তারা দাবি করেন, অবিলম্বে খসরা সংশোধন করে সকল পক্ষকে স্বীকৃতি দিতে হবে।

অন্যদিকে, জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজনও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এক ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি বলেছেন, জাতীয় সরকারের কোনো প্রস্তাবনা ছাত্রদের পক্ষ থেকে তাদের দেওয়া হয়নি। কিন্তু নাহিদ দাবি করেন, ৫ আগস্ট রাতেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে জাতীয় সরকার ও নতুন সংবিধানের প্রস্তাবনা বিএনপিকে দেওয়া হয়। এমনকি পরবর্তীতে ভার্চুয়াল বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গেও এই বিষয়ে আলোচনা হয়। তারেক রহমান সে প্রস্তাবে সম্মত হননি এবং নাগরিক সমাজের সদস্যদের দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পরামর্শ দেন।

নাহিদ ইসলাম আরও দাবি করেন, উপদেষ্টা পরিষদের নাম চূড়ান্ত করার আগে একাধিকবার বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তাদের আলোচনা হয়েছে এবং তাদের সম্মতি নিয়েই উপদেষ্টারা শপথ নিয়েছেন। কিন্তু এখন বিএনপি সেই ভূমিকা অস্বীকার করছে, যা তিনি ‘রাজনৈতিক সুবিধাবাদের’ অংশ বলে উল্লেখ করেন।

অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময় নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, কিছু চক্র অভ্যুত্থানকে দলীয় করণের চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা সাদিক কায়েম সম্প্রতি দাবি করেছেন, ‘ছাত্রশক্তি’ গঠনে শিবিরের ভূমিকা ছিল এবং আন্দোলন শিবিরের দিকনির্দেশনায় পরিচালিত হয়েছে। এই বক্তব্যকে ‘মিথ্যাচার’ আখ্যা দিয়ে নাহিদ বলেন, ‘গুরুবার আড্ডা’ পাঠচক্র, ঢাবি ছাত্র অধিকার আন্দোলনের কিছু পদত্যাগী অংশ এবং জাবির একটি স্টাডি সার্কেল মিলে ছাত্রশক্তির ভিত্তি গড়ে তোলে। শিবিরের সাথে যোগাযোগ থাকলেও তা রাজনৈতিকভাবে যুক্ত থাকার প্রমাণ নয় বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে আরও বড় অভিযোগ এসেছে ২ আগস্ট রাতে জুলকারনাইন সায়ের গংয়ের বিরুদ্ধে। নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, ওই রাতে একদল ব্যক্তি সামরিক ক্যু করার উদ্দেশ্যে কথিত সেইফ হাউসে অবস্থানকারী ছাত্র নেতাদের উপর চাপ সৃষ্টি করে যেন তারা ফেসবুকে একদফা ঘোষণা দিয়ে সকল রাজনৈতিক যোগাযোগ ছিন্ন করে। কিন্তু আন্দোলনকারীরা এই চাপ প্রত্যাখ্যান করে মাঠ থেকেই ঘোষণা দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেয়। নাহিদ বলেন, সেনাবাহিনীকে ক্ষমতায় বসানোর এই অপচেষ্টা সফল হলে আরেকটি ‘এক-এগারো’ ফিরে আসত।

তিনি দাবি করেন, এখনো সায়ের গংরা বিভাজনের রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন আন্দোলনকারী নেতার বিরুদ্ধে চরিত্র হনন, কল রেকর্ড ফাঁস ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

এ অবস্থায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদী ঘোষণা দিয়েছেন, ৩ আগস্টের মধ্যে জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্রের সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং পরিষ্কার রূপরেখা না দেওয়া হলে কফিন মিছিলের কর্মসূচি পালন করা হবে। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “সকল উপদেষ্টার জন্য কফিনের ব্যবস্থা আমরা করবো। মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধে বৃষ্টিতেও আমরা রাজপথে নামবো।”

শাহবাগের অবরোধ ও নেতাদের একের পর এক বক্তব্যে স্পষ্ট, অভ্যুত্থান-পরবর্তী নেতৃত্ব, স্বীকৃতি এবং সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে মাঠের আন্দোলনকারীদের মধ্যে গভীর অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। আন্দোলনকারীরা বলছেন, এই অভ্যুত্থান কোনো গোষ্ঠীর ছিল না, ছিল জনগণের; আর জনগণের রক্তে লেখা ইতিহাস কাউকে মুছে ফেলতে দেওয়া হবে না।