বাসস্ট্যান্ডে কোটি টাকার চাঁদাবাজি: ভাগ পায় বিএনপিও, নেতৃত্বে আ.লীগ নেতা তাজুল
- আপডেট সময় : ১২:১৯:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫ ৭৭ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লার শাসনগাছা বাসস্ট্যান্ডে কোটি টাকার চাঁদাবাজি এখনো চালু রয়েছে আওয়ামী লীগ ক্যাডারদের মাধ্যমে, যার অংশ পায় বিএনপি নেতারাও। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ৩নং দক্ষিণ দুর্গাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি তাজুল ইসলামের নেতৃত্বেই চলছে এই অর্থ লেনদেনের নিয়ন্ত্রণ।
তাজুল ইসলাম বিগত ১৬ বছর ধরে কুমিল্লা মোটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন এবং দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এখনো তিনি শক্ত অবস্থানে আছেন। গত বছর ৫ আগস্ট স্বৈ’রা’চারী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পরেও তার অবস্থান অক্ষুণ্ণ রয়েছে।
প্রতিদিন শাসনগাছা বাসস্ট্যান্ডের প্রতিটি বাস থেকে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় হয়। এর মধ্যে কেবল ৫০০ টাকা অফিসিয়ালি জমা হয়, বাকি টাকা ভাগ হয়ে যায় স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে। পরিবহনগুলোর মধ্যে রয়েছে—পাপিয়া, একতা, সুগন্ধা, রয়েল, রিয়েল, এশিয়া, লাব্বাইক, সততা প্রভৃতি।
তাজুলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সালাউদ্দিন বিপ্লব সুগন্ধা পরিবহন থেকে দৈনিক ৯০০ টাকা আদায় করে মাত্র ১০০ টাকা জমা দেন, বাকিটা নিজের কাছে রেখে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, বিএনপি নেতা রেজাউল কাইয়ুমের ভাই রাশেদ সরাসরি চাঁদা আদায়ে জড়িত। প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার গাড়ি থেকে ১০০-১৫০ টাকা করে তোলা হয় এবং মাসিক চুক্তিতেও টাকা লেনদেন হয়।
তিনি আরও বলেন, রয়েল কোচ এখন চলছে শাসনগাছা স্ট্যান্ড থেকে, রেজাউল কাইয়ুমের নির্দেশে। এই পরিবহন আগে চলত জাঙ্গালিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে।
তিশা প্লাস পরিবহনের মালিক রুহুল আমিন বলেন, “চাঁদা না দিলে গাড়ি চলে না। আমরা অসহায়। সবকিছুর পেছনে আছে তাজুল ইসলাম এবং কিছু বিএনপি নেতা।”
রিয়েল পরিবহনের মালিক ও মোটর অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, “১৬ বছর ধরে তাজুল প্রভাব খাটাচ্ছে। কোনো হিসাব সে দেয় না।”
মো. সাহিদুল হক, সাতরা এলাকার বাসিন্দা, বলেন, “তাজুল একজন চাঁদাবাজ আওয়ামী লীগ ক্যাডার। ছাত্রদের ওপর হা’ম’লা করেছে। বিএনপির নেতারাই তাকে আশ্রয় দেয়।”
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, এক বিএনপি নেতা মাসে দুই লাখ টাকা নিয়ে তাজুলকে চাঁদাবাজির সুযোগ দিচ্ছেন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে তাজুল ইসলাম বলেন, “সমিতির ক্যাশিয়ার, সভাপতি আছেন। হিসাব রাখা হয়। আর সাংবাদিকদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালো।”
তবে মোটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জামিল আহমেদ খন্দকার বলেন, “তাজুল ইসলাম চাঁদাবাজি করছে কিনা, আমার জানা নেই।”
বিএনপির নাম ব্যবহার করে টাকা তোলার বিষয়ে জানতে চাইলে রেজাউল কাইয়ুম বলেন, “কিছু টাকা উঠিয়ে স্টাফদের বেতন দেয়া হয়, চাঁদাবাজি হয় বলে জানি না।”
সুজন কুমিল্লার সভাপতি আলমগীর হোসেন খাঁন বলেন, “চাঁদাবাজি আগেও ছিল, এখনো হচ্ছে। রাজনৈতিক ব্যাকিং ছাড়া শ্রমিকরা এসব করতে পারে না। প্রশাসন চাইলে এটা বন্ধ করা সম্ভব।”
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. নাজির আহমদ খান বলেন, “চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব।”
জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল কায়ছার বলেন, “ইজারার বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায় চাঁদাবাজি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেব।”
















