সীরাতুন্নবী ও মিলাদুন্নবীকে ঘিরে যে বিতর্ক চলে, তা মূলত অজ্ঞতা ও সংকীর্ণতার ফল। প্রকৃতপক্ষে, সীরাত ছাড়া মিলাদ অর্থহীন, আর মিলাদ ছাড়া সীরাতও অসম্পূর্ণ। যে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জন্মদিনে আনন্দ প্রকাশ করতে চায়, অথচ তাঁর সীরাতকে অবহেলা করে। সে ভালোবাসার আসল মাপকাঠি হারিয়ে ফেলে। আর যে সীরাতের কথা তোলে, কিন্তু তাঁর জন্মোৎসবের খুশিকে নিছক অবজ্ঞা করে—সে হৃদয়ের প্রশান্তি থেকে বঞ্চিত হয়।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার প্রকৃত প্রমাণ হলো তাঁর সীরাত অনুসরণ করা এবং তাঁর আনা বিধানকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বাস্তবায়ন করা। কেবল ঢাক-ঢোল বাজিয়ে র্যালি করে কিংবা নাত গেয়ে দিনের সমাপ্তি ঘটালে সীরাতের মর্ম ধরা পড়ে না। আবার ইহতেফালের নামে হারাম কাজে লিপ্ত হওয়াও ভ্রান্তি–ঢোল, তবলা, বাঁশি, হারমোনিয়ামের আধুনিক জাহেলিয়াত কোনোভাবেই সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত নয়।
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, প্রিয় নবীর জন্মোৎসবে খুশি প্রকাশ করলে কারও অন্তরে জ্বালা ধরারই বা কী কারণ থাকতে পারে? সাইয়্যিদুল কাওনাইন (সা.)-এর আগমনে আনন্দিত হওয়া ঈমানেরই দাবি। অথচ অনেকে দেশে একে বেদআত আখ্যা দেয়, আবার বিদেশে গিয়ে আরবি লিখিত মাওলীদ ব্যানারের নিচে সুচারু কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে। এ এক আশ্চর্য দ্বিচারিতা! যদি মিলাদ ইহতেফালকে নিছক বেদআত বলা হয়, তবে সীরাতুন্নবী ইহতেফালকেও সমানভাবে বেদআত বলতে হবে।
আমাদের কর্তব্য হলো: মুনকারাতমুক্তভাবে সীরাতুন্নবী ও মিলাদুন্নবী উভয়কেই পালন করা। সুস্থ সাংস্কৃতিক আবহে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন আলোচনা হোক, নাত-সন্ধ্যা হোক, নফল সালাত-সিয়াম হোক। কেননা তিনি -ই মানবতার মুক্তির দূত, তিনি-ই কিয়ামতের ময়দানে মহাশাফায়াতের অধিকারী।
এ ভালোবাসা হোক সুন্নতের পথে, আনুগত্যের মর্মে, হৃদয়ের অন্তঃস্থলে।
লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামি আইন বিভাগ , আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়।
এসইউটি/