থার্টি ফার্স্ট নাইটের সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি আমাদের বিশ্বাস ও সভ্যতার বাইরে এক সুস্পষ্ট বিজাতীয় সংস্কৃতি, যা অনুকরণের মাধ্যমে সমাজে প্রবেশ করেছে। ইসলাম সময়ের পরিবর্তনকে উৎসব নয়, বরং আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধির উপলক্ষ হিসেবে দেখে।
একটি বছর অতিবাহিত হওয়া মানে আমাদের জীবন থেকে আরও একটি অধ্যায় চিরতরে শেষ হয়ে যাওয়া। এই বাস্তবতায় আনন্দে মেতে ওঠার আগে আমাদের আফসোস করা উচিত—কিভাবে আমাদের হায়াত দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। প্রশ্ন হওয়া দরকার, আমরা কোন আমল নিয়ে আমাদের রবের কাছে হাজির হবো? জানা-অজানা ছোট-বড় গুনাহে জর্জরিত আমাদের জীবন কি আদৌ আত্মতৃপ্তির সুযোগ দেয়?
তবুও বছরের শেষ রাতে দেখা যায় উন্মত্ত আনন্দের বহিঃপ্রকাশ। আতশবাজির বিকট শব্দে হাসপাতালের মুমূর্ষু রোগীরা আতঙ্কিত হয়, হৃদরোগীরা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে। ঘরে থাকা বৃদ্ধ মা–বাবা, শিশু ও অসহায় মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হয়। অবলা প্রাণী ও পাখিরা শব্দদূষণের কারণে প্রাণ হারায়। আনন্দের নামে অন্যের কষ্ট উপেক্ষা করা কোনো সভ্য সমাজের পরিচয় হতে পারে না।
প্রশ্ন থেকেই যায়—এই দিনটি এল কোথা থেকে? কোন বিশ্বাস ও সংস্কৃতির ধারাবাহিকতায় আমরা এটি উদ্যাপন করছি? ইসলাম অন্য জাতির অন্ধ অনুকরণ থেকে সতর্ক করেছে, কারণ সংস্কৃতি নিছক বিনোদন নয়; এটি বিশ্বাস ও আত্মপরিচয়ের প্রতিফলন।
অথচ আমরা জেনেশুনেই হারামের আবর্তে জড়িয়ে পড়ি এবং সেটিকে আনন্দের মোড়কে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করি। এখনো কি আমাদের হৃদয় নরম হওয়ার সময় আসেনি? এখনো কি আল্লাহর দিকে ফিরে আসার ক্ষণ উপস্থিত হয়নি?
নতুন বছর হোক আতশবাজির আলোয় নয়, আত্মশুদ্ধির আলোয়।
নতুন বছর হোক উচ্ছ্বাসের নয়, সংযমের।
নতুন বছর হোক বিজাতীয় অনুকরণের নয়, ঈমানি সভ্যতা গঠনের বছর।
ইনশাআল্লাহ—এই বছর থেকে আমরা মুনকারাত পরিহারের নিয়ত করি, হারাম থেকে ফিরে হালালের পথে চলার অঙ্গীকার করি। কারণ প্রকৃত উন্নয়ন শব্দ ও আলোর ঝলকে নয়, বরং চরিত্র, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের দৃঢ়তায়।
● মুহাম্মদ আম্মার হোসাইন: শিক্ষার্থী, ইসলামি আইন বিভাগ, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়।
জনচিন্তা/এসইউটি