হাতে হাতকড়া ও পায়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৩০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে তাদের বহনকারী বিশেষ ফ্লাইটটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। রাত ২টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রানওয়েতে শিকল খুলে অ্যারাইভাল গেটে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে একজন নারীও ছিলেন।
ইমিগ্রেশনের একজন কর্মকর্তা জানান, রাত ১১টার পর বিমানবন্দরে অবতরণ করে উড়োজাহাজটি। প্রায় তিন ঘণ্টা রানওয়েতে অবস্থানের পর যাত্রীদের হাতকড়া ও শিকল খোলা হয়। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ টিম, কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য এবং যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তাদের আনা হয়। এ সময় কাউকে কাছে যেতে বা ছবি তুলতে দেওয়া হয়নি।
বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক জানিয়েছে, ফেরত আসাদের বাড়ি পৌঁছাতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর অভিযান জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে অন্তত ১৮০ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তারা মেক্সিকোসহ লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ হয়ে দালালদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। জনপ্রতি ৩০ থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করেছেন বলে জানা যায়।
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, অভিবাসন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে হাতকড়া ও শিকল পরিয়ে ফেরত পাঠানো অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি মানুষের জন্য সারা জীবনের ট্রমা হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তিনি অনুরোধ জানান, ভবিষ্যতে এমন প্রত্যাবাসনে মানবিক দিকটি গুরুত্ব সহকারে দেখার জন্য।
প্রথমদিকে এভাবে শিকল ব্যবহার করা না হলেও চলতি বছরের ২ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত আসা ৩৯ জন বাংলাদেশির হাতেও একইভাবে হাতকড়া ও শিকল ছিল। এবারও ফেরত আসাদের ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের শুরু থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত আসা বাংলাদেশির সংখ্যা ১৮০ ছাড়িয়েছে। এর আগে ২০১৬ সালে একইভাবে শিকল পরিয়ে ২৭ জনকে ফেরত পাঠানো হলে তা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছিল এবং মানবাধিকার ইস্যুতে প্রশ্ন তুলেছিল।
আইজে/