বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি দিয়েছে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)। একই সঙ্গে ভারতের ‘বাংলাদেশ-নীতি’ এবং দেশটির ‘আগ্রাসী ভূমিকা’রও তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে চিঠিতে।
বুধবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের কাছে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় লেখা চিঠিটি হস্তান্তর করেন জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান। তবে হাইকমিশনের কোনো কর্মকর্তা সরাসরি চিঠি গ্রহণ না করায়, তা গ্রহণ করেন ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি ডিভিশনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার তালাত মাহমুদ শাহান শাহ।
চিঠিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলা হয়, “ভারতের জনগণকে ৭৮তম স্বাধীনতা দিবসের অগ্রিম শুভেচ্ছা। আপনাকে মনে করিয়ে দিতে চাই, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক যাত্রা শুরু করে, যখন ভারতীয় বাহিনী বাংলাদেশের প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের সম্পদ লুট করে। শুরু থেকেই ভারত বাংলাদেশকে করদ রাজ্য হিসেবে দেখতে চেয়েছে, যা আমাদের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।”
চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে ভারত ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বাংলাদেশকে বঞ্চিত করছে। অবৈধভাবে বাংলাদেশের কিছু অংশ দখল করে রেখেছে। নিজেদের সুবিধার জন্য বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ট্রানজিট রুট ও করিডর ব্যবহার করেছে। এছাড়া রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র) এবং ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী অননুমোদিতভাবে বাংলাদেশের প্রশাসনে হস্তক্ষেপ করেছে—যা চিঠিতে ‘অনৈতিক’ ও ‘লজ্জাজনক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।