বাংলাদেশের নির্বাচনী পরিবেশ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমাদ। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময়ে সহিংসতা ও সংঘাত দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে অসংখ্য প্রাণহানি ঘটে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের আশা করা হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি, বরং কিছু ক্ষেত্রে অবনতি ঘটেছে।
সোমবার পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তৃতীয় ও শেষ ধাপের প্রার্থী বাছাই অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, কুমিল্লা, খুলনা, সিলেটসহ বিভিন্ন জেলার সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকার নেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। আলোচনা শেষে প্রতিটি আসনে একজন করে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়। দলটি শিগগিরই ৩০০ আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবে এবং পিআর পদ্ধতিতে উভয়কক্ষে নির্বাচন আয়োজনের দাবি অব্যাহত রাখবে।
ইউনুস আহমাদ বলেন, “নির্বাচন ব্যবস্থাকে সুস্থ ও সাবলীল করতে অনেক রাজনৈতিক দল ও বুদ্ধিজীবী উভয়কক্ষে পিআর পদ্ধতির দাবি জানালেও সরকার নিম্নকক্ষে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা করেনি। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহতার সাম্প্রতিক উদাহরণ গাজীপুরে দেখা গেছে, যেখানে চাঁদাবাজির সংবাদ প্রকাশ করায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও জবাই করে সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, “নির্বাচনের সময়ে সাংবাদিকরা যাতে অন্যায়, ভোটচুরি বা ভোট ডাকাতির তথ্য প্রকাশে সাহস না পায়, সেই ভয় তৈরি করতেই এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। যদি তা-ই হয়, তাহলে এবারের নির্বাচনও আগের মতো কলঙ্কিত হবে। সামগ্রিকভাবে সরকারের প্রচেষ্টা পর্যাপ্ত নয়, ফলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হচ্ছে না।”