|মোহাম্মদ রাকিব হোসেন|
ইতিহাসের পাতায় লেখা একটি দিন—নফল নামাজে দাঁড়িয়ে সিজদাহ দিয়ে অশ্রু চোখে শুধু অনুভব করছিলাম, আল্লাহ কি আমাদের কথা শুনছেন না!!!
নামাজ শেষে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলছিলাম, “আল্লাহ, আপনার ইচ্ছা আমাদের জন্য যা ভালো হবে, আপনি সেটাই ফয়সালা করেন।”
পেরিয়ে গেল একটি বছর। মহান রবের কাছে আজও বলি— এমন শাসক আমাদের দিন, যেই শাসকের অধীনে জনগণ মুক্ত পাখির মতো উড়ে বেড়াতে পারবে। যেই শাসক আলেমদেরকে সঠিক পাওনা বুঝিয়ে দেবে। যেই শাসক সকল ধর্মকে সমান চোখে দেখবে। যেই শাসক মাদ্রাসার ছাত্রদেরকে ধরে ধরে (জ*ঙ্গি) বানাবে না।
এই দেশে এমন একজন শাসক চাই, যারা মনে-প্রাণে বাংলাদেশকে ভালোবাসবে। হে রব, তুমি আমাদের এমন একজন শাসক দাও— যেই শাসক দেশ নিয়ে চিন্তা করবে, দেশের জনগণের কল্যাণের চিন্তা করবে। দামি গাড়িতে চড়ে নয়, পায়ে হেঁটে হেঁটে জনগণের খোঁজখবর নেবে।
পরিবর্তন আমাদের হতেই হবে। পরিবর্তন আমাদের করতেই হবে। আমাদের দায় অনেক। এতগুলা মানুষের জীবনের দাম দেওয়ার মতো কোনো উপঢৌকন আমাদের কাছে নাই। এতোগুলা আহত মানুষের ঋণ পরিশোধ করার সামর্থ্য আমাদের কাছে নাই।
আমি চাই না বাংলাদেশে এমন পরিস্থিতি আর কখনো তৈরি হোক। আমি নিজেকে এখনো প্রশ্ন করি— শহীদ ভাইরা যদি আমাকে প্রশ্ন করে, “কতটুকু অর্জন ধরে রেখেছো?” তখন আমি কি জবাব দেবো!!!
আমাদের দেশের মুক্তি তখনই হবে, যখন আমরা সবাই বাংলাদেশ পন্থী হয়ে উঠতে পারবো। যখন আমাদের স্লোগান হবে— “আমরা বাংলাদেশী।”
যখন এ দেশের মিডিয়া বিভাগ, বিচার বিভাগ, আইন বিভাগ, প্রশাসন বিভাগ এবং রাজনীতিবিদগণ সমস্বরে মন থেকে বলবে— “আমরা বাংলাদেশী, আমরা সবাই বাংলাদেশ পন্থী।” তখনই এই জাতির মুক্তি হবে, সত্যিকারের মুক্তি।
আমি সেই দিন মন খুলে হাসবো— যেদিন এ দেশের প্রতিটি জনগণ মন থেকে বলবে— “আমরা বাংলাদেশ পন্থী।”
সেই দিনটির অপেক্ষায় আমি। ততদিন পর্যন্ত আমার সংগ্রাম চলবে। আমার জাতীয়তা— আমি বাংলাদেশী, এটাই আমার বড় পরিচয়।
ইনকিলাব জিন্দাবাদ.
● মোঃ রাকিব হোসেন, রাজনীতিবিদ।