ফরিদপুরের নগরকান্দায় ঘটেছে নাটকীয় ও বিভ্রান্তিকর এক ঘটনা। ভুয়া র্যাব সদস্যদের ধাওয়া করতে গিয়ে আসল র্যাব সদস্যরাও জনগণের হাতে মার খেয়েছেন। পরে পুলিশ ও র্যাবের অন্যান্য দল গিয়ে উভয় পক্ষকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
সোমবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের জয় বাংলা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। র্যাব-১০ এর মুন্সিগঞ্জ ক্যাম্প থেকে একটি দল ডাকাতি মামলার আসামিদের ধাওয়া করে নগরকান্দায় পৌঁছায়। অভিযুক্তরা নিজেদের র্যাব পরিচয় দিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিল। স্থানীয়রা সন্দেহ করে একটি গাড়ি থামিয়ে যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। তারা র্যাব পরিচয় দিলে উত্তেজিত জনতা তাদের পিটুনি দেয়।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে, যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আসল র্যাব সদস্যদের একটি দল, যাদের অনেকেই ছিলেন সাদাপোশাকে। জনতা তাদেরও ভুয়া র্যাব সন্দেহে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে নগরকান্দা থানা পুলিশ ও আশপাশের র্যাব সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
র্যাবের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজন ভুয়া র্যাব সদস্য ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁরা হলেন: শরীয়তপুরের স্বপন খান (৪৫), চাঁদপুরের মিন্টু গাজী (৪৫), গাইবান্ধার মো. সাইফুল ইসলাম (৩০), মাদারীপুরের মো. জামিল (৩২) ও ফরিদপুরের দিদার (২৯)।
র্যাব-১০ ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার তারিকুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের ভুল বোঝাবুঝির কারণে এ ঘটনা ঘটে। অনেক র্যাব সদস্য সিভিলে থাকায় জনতা বিভ্রান্ত হয়।
র্যাব-১০ মুন্সিগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার আনোয়ার হোসেন বলেন, “ভুয়া র্যাবের দলকে শ্রীনগর থেকে ধাওয়া করা হয়। তারা পদ্মা সেতু পেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। আমরা তাদের জনগণের হাতে গণপিটুনি থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করি। প্রথম পর্যায়ে আমরাও মারধরের শিকার হই, তবে তা বড় কিছু নয়।”