গোয়েন্দা ব্যর্থতার দায়ে বড় ধরনের সংস্কারে যাচ্ছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর গোয়েন্দা শাখা ‘আমান’। এখন থেকে আরবি ভাষা ও ইসলামি সংস্কৃতির জ্ঞান অর্জন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে সব গোয়েন্দা সদস্যের জন্য।
ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট ও জিউইশ নিউজ সিন্ডিকেট (জেএনএস) জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলার পর গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণে যে ঘাটতি সামনে এসেছে, তা পূরণে আইডিএফ গোয়েন্দা শাখায় এই মৌলিক সংস্কার আনা হচ্ছে।
‘আমান’-এর প্রধান মেজর জেনারেল শলোমি বিন্ডারের নেতৃত্বে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে। তার নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, শুধু মাঠ পর্যায়ের নয়, বরং প্রযুক্তি ও লজিস্টিক দায়িত্বে থাকা সদস্যদেরও এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যে শতভাগ গোয়েন্দা সদস্যকে ইসলামি সংস্কৃতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং পঞ্চাশ শতাংশ সদস্যকে আরবি ভাষায় দক্ষ করে তোলা হবে।
প্রতিটি ব্রিগেড ও ডিভিশনে দায়িত্বরত গোয়েন্দা অফিসারের জন্য আরব বিশ্বের ইতিহাস, উপভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নিয়োগ-পূর্ব প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে সিনিয়র অফিসার কোর্স পর্যন্ত এই বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এই সংস্কারের অংশ হিসেবে আইডিএফ একটি নতুন বিভাগ চালু করছে, যেখানে হুতি ও ইরাকি উপভাষার ওপর বিশেষ কোর্স থাকবে। এছাড়া, ভাষাগত বৈচিত্র্য ও উচ্চারণ বুঝতে স্থানীয় আরব সম্প্রদায় থেকে প্রশিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
পুনরায় চালু করা হচ্ছে 'টেলেম' নামের শিক্ষা বিভাগ, যেটি আগে ইসরায়েলি স্কুলে আরবি ও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক পাঠদান করত। ছয় বছর আগে বাজেট সংকটে এটি বন্ধ হয়ে যায়। এবার তা পুনরায় চালুর মাধ্যমে স্কুল ও প্রাক-সামরিক পর্যায়ে আরব সমাজ সম্পর্কে বোঝাপড়া বাড়ানোর চেষ্টা করছে আইডিএফ।
ভাষাগত দক্ষতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি হুতি নেতার ওপর ইসরায়েলি হামলা ব্যর্থ হওয়ার একটি কারণ ছিল— ওই নেতা খাত (এক ধরনের উদ্দীপক গুল্ম) চিবিয়ে অস্পষ্টভাবে কথা বলছিলেন, যা অনুবাদকরা বুঝতে পারেননি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গোয়েন্দা কাঠামোয় এই সংস্কার একটি ‘সংস্কৃতিক বিপ্লব’ হিসেবে বিবেচিত হবে, যা ভবিষ্যতে হামাস, হুতি, ইরাকসহ আরব বিশ্বের বিষয়ে আরও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাস দিতে সহায়ক হবে।