তিনদিনের প্রহর গুণে অবশেষে ঘরে ফিরল নিধি। তবে সে ফিরল না প্রাণবন্ত সেই কিশোরীর রূপে, ফিরল একটি কফিনে বন্দি হয়ে—আগুনে পোড়া নিথর দেহে। এই দৃশ্য কোনো বাবা-মার জন্য কল্পনাতেও ছিল না।
উত্তরার মাইলস্টোন কলেজের জুনিয়র শাখার শিক্ষার্থী ওকিয়া ফেরদৌস নিধি নিখোঁজ ছিল ২২ জুলাইয়ের ভয়াবহ প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনার পর থেকে। তার পরিবারের দৌড়ঝাঁপ চলছিল এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে। অবশেষে সিআইডি পাঁচটি মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করে, যার মধ্যে ছিল নিধির মরদেহও।
বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা সিএমএইচের মর্গ থেকে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষে নিধি, প্রিয়া, রাইসা, আফিয়া ও সোনিয়ার লাশ হস্তান্তর করা হয় তাদের স্বজনদের কাছে। সন্তানকে কফিনবন্দি অবস্থায় দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা সালমা আক্তার ও বাবা মো. ফারুক হোসেনসহ পরিবারের সদস্যরা।
এদিকে দুর্ঘটনায় দগ্ধ হয়ে এখনও মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে প্রায় অর্ধশতাধিক শিশু। জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছে অন্তত ৪৪ জন। তাদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় মাহতাব রহমান ও মাহিয়া নামের আরও দুই শিক্ষার্থী।
দগ্ধদের চিকিৎসা সহযোগিতায় বুধবার রাতে ভারত থেকে চার সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল ঢাকা পৌঁছে বৃহস্পতিবার সকালে বার্ন ইনস্টিটিউটের মেডিকেল বোর্ডের সঙ্গে বৈঠক করেছে। এদিকে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা দিতে চীন থেকেও আসছে একটি মেডিকেল টিম, যারা বৃহস্পতিবার রাতেই ঢাকায় পৌঁছাবে বলে জানা গেছে।