পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে টানা ভারি বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩ জনে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৯০ জন। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বেশিরভাগ মৃত্যু হয়েছে ভবন ধসে পড়ার কারণে। এছাড়া ডুবে যাওয়া ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর ডন ও বার্তা সংস্থা এএফপি।
জুনের শেষ ভাগ থেকে শুরু হওয়া বর্ষা মৌসুমে দেশজুড়ে মৃতের সংখ্যা প্রায় ১৮০ ছাড়িয়েছে, যার অর্ধেকেরও বেশি শিশু।
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজধানী ইসলামাবাদের পাশের শহর রাওয়ালপিন্ডিতে বৃহস্পতিবার ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।
পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ জানান, কয়েকটি জেলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “সরকারি সব সংস্থা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টায় কাজ করছে। সাধারণ মানুষকে সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি।”
এক দিনে প্রায় ৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ায় চাকওয়াল শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। পানিবন্দি মানুষের উদ্ধারে কাজ করছে উদ্ধারকারী নৌকা ও সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার।
বন্যার কারণে পাঞ্জাবের একাধিক এক্সপ্রেসওয়ে বন্ধ রয়েছে, বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে বহু ফ্লাইট।
আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলছেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে আরও ভারি বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাজার হাজার উদ্ধারকর্মীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
পাকিস্তানের ২৫ কোটির বেশি জনসংখ্যার একটি বড় অংশ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির মুখে। দেশটিতে ১৩ হাজারেরও বেশি হিমবাহ রয়েছে, যেগুলোর দ্রুত গলন দেশটির জন্য মারাত্মক পরিবেশগত হুমকি হয়ে উঠছে।
২০২২ সালে মৌসুমি বন্যায় পাকিস্তানের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। প্রাণ হারান প্রায় এক হাজার ৭০০ জন। ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
জাতিসংঘ ইতোমধ্যে পাকিস্তানকে জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কাঠামোর দ্বৈত ক্ষতির শিকার দেশ হিসেবে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে।