জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পূর্বঘোষিত ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচিতে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের হামলার ঘটনায় জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো একে গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত ও ফ্যাসিবাদী শক্তির চক্রান্ত বলে আখ্যা দিয়েছে। তারা হামলার নিন্দা জানিয়ে প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক ভূমিকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার পতনের পর আবারও দুষ্কৃতিকারীরা দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। আজকের হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ ও পুলিশের ওপর আক্রমণ—সবই সেই অপতৎপরতারই অংশ। ইন্টেরিম গভর্নমেন্টকে বেকায়দায় ফেলতেই এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। দুষ্কৃতিকারীদের কঠোর হস্তে দমন ছাড়া বিকল্প নেই।”
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, “গোপালগঞ্জ বাংলাদেশের সার্বভৌম ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত। সেখানে অভ্যুত্থানকারী ছাত্রদের ওপর বর্বর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। হামলাকারীরা খুন, গুম ও দুর্নীতিতে নিমজ্জিত শক্তির লোক। প্রশাসনের ভূমিকা ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যর্থ ছিল এবং তদন্ত প্রয়োজন। পুলিশ সুপারের ভূমিকা সন্দেহজনক।”
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের দুঃসাহস আজ গোপালগঞ্জে প্রকাশ পেয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ। তারা এখনো জনগণের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।”
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, “গোপালগঞ্জের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বর্বর হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ ও পুলিশের ওপর আক্রমণ সরাসরি রাষ্ট্রীয় ও নাগরিক নিরাপত্তার ওপর হুমকি। ভারতপন্থী একটি চক্র পলাতক নেত্রীর ইন্ধনে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।”
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার বলেন, “ছাত্র-জনতার বিজয়ের পরও দুষ্কৃতিকারীরা নৈরাজ্য সৃষ্টি করে ইন্টেরিম গভর্নমেন্টকে চাপে ফেলতে চায়। আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির সুযোগে ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। দল-মত নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”
নেতারা বলেন, গোপালগঞ্জের হামলা গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত। হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত এবং প্রশাসনের ভূমিকায় নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে তারা বলেন—ফ্যাসিবাদ রুখে দিতে এখনই জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা প্রয়োজন।